অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসোর, যিনি পূর্বে ডিউক অফ ইয়র্ক নামে পরিচিত, সোমবার রাতেই উইন্টারসের রয়্যাল লজ ত্যাগ করে নরফোকের স্যান্ডরিংহাম এস্টেটে স্থানান্তরিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে ওড ফার্ম কটেজে অবস্থান করছেন, যেখানে তার স্থায়ী বাসস্থানের সংস্কার কাজ চলছে।
বিকিংহাম প্যালেসের প্রকাশনা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে রয়্যাল লজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং একই সময়ে তার প্রিন্সের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। এই পদক্ষেপটি রয়্যাল লজের লিজ চুক্তি শেষ করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসোরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার চাপ বাড়ছে। যদিও তিনি পূর্বে এই সম্পর্কের কোনো অবৈধ দিক স্বীকার করেননি, তবু আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে হাজির হতে বলা হয়েছে।
স্যান্ডরিংহাম এস্টেটের মালিকানা রাজা নিজেই রাখেন এবং মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসোরের নতুন বাসস্থানের খরচ রাজা বহন করবেন বলে জানানো হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার শেষ হলে তিনি শেষ পর্যন্ত মার্শ ফার্মে বসবাস করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে, অ্যান্ড্রু আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উইন্টারসে ফিরে গিয়ে তার অবশিষ্ট সামগ্রী সংগ্রহ করবেন। তবে তার প্রধান বাসস্থান এখন নরফোকের স্যান্ডরিংহাম হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
মৌলিকভাবে, অ্যান্ড্রুকে শেষবার উইন্টারসে দেখা গিয়েছিল যখন তিনি ঘোড়ায় চড়ে তার পুরনো বাড়ির কাছাকাছি গিয়েছিলেন এবং উইন্টারস ক্যাসেল থেকে গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীদের হাতে হাত নেড়ে বিদায় জানিয়েছিলেন।
বিকিংহাম প্যালেসের অক্টোবরের বিবৃতিতে রয়্যাল লজের লিজ বাতিলের জন্য আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নোটিশের পরে লিজের ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত বিতর্ক তীব্রতর হয়েছে।
ন্যাশনাল অডিট অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৩ সালে মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসোর যখন লিজ গ্রহণ করেন, তখন তিনি £৮ মিলিয়নের বেশি অর্থ প্রদান করে রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ ভাড়া থেকে মুক্তি পেতে সম্মত হন। এই চুক্তিতে বার্ষিক £২৬০,০০০ নোটিশমূলক ভাড়া অগ্রিম প্রদান করা হয়েছিল।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যদি তিনি ৭৫ বছরের লিজের আগে তা ত্যাগ করেন, তবে তিনি প্রায় £৪৮৮,০০০ ফেরত পাওয়ার অধিকারী হতে পারতেন। তবে এই সম্ভাব্য ফেরত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ক্রাউন এস্টেটের একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে রয়্যাল লজের অবস্থা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত যে ব্যাপক মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। এই রক্ষণাবেক্ষণ খরচের পরিমাণ এবং লিজের শর্তাবলী নিয়ে পার্লামেন্টের সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসোরের স্থানান্তর এবং রয়্যাল লজের লিজ বাতিলের প্রক্রিয়া রাজকীয় সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও পাবলিক অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনার নতুন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে স্যান্ডরিংহাম এস্টেটের মেরামত ও নতুন বাসস্থানের প্রস্তুতি কীভাবে অগ্রসর হবে, তা নজরে থাকবে।



