মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ১৯:৩০ (স্থানীয় সময়) এ দুইটি এয়ারবাস A320 জেটের উইংটিপ সংস্পর্শে আসে। এয়ার ইন্ডিয়া একটি কোইম্বাটুরের দিকে রওনা হতে প্রস্তুত থাকলে, ইন্ডিগো একটি হায়দ্রাবাদ থেকে অবতরণ করে সমান্তরাল রানে ট্যাক্সি করছিল।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) জানায়, উভয় বিমানের ডানদিকের উইংটিপ একে অপরকে স্পর্শ করেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবতরণ করা হয়। উভয় এয়ারলাইনই নিশ্চিত করেছে যে কোনো যাত্রী বা ক্রু সদস্যের আঘাত হয়নি।
সংঘর্ষের পর উভয় বিমানই মাটিতে স্থগিত করা হয়েছে এবং বিস্তারিত পরিদর্শনের জন্য গ্রাউন্ডেড করা হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে যে তার বিমানে উইংটিপে ক্ষতি হয়েছে এবং প্রভাবিত যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইন্ডিগোও একইভাবে জানিয়েছে যে সব যাত্রী নিরাপদে নেমে গেছেন এবং তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার সময় এয়ার ইন্ডিয়া কোইম্বাটুরের দিকে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, আর ইন্ডিগো হায়দ্রাবাদ থেকে সদ্য অবতরণ করে ট্যাক্সি করছিল। উভয় বিমানের সঠিক যাত্রী ও ক্রু সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, তবে এয়ারবাস A320 জাতীয় রুটে সাধারণত ১৫০ থেকে ১৮৬ যাত্রী এবং ছয় থেকে আটজন ক্রু নিয়ে চলতে দেখা যায়।
DGCA তৎকালীন ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা পাঠিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং উভয় এয়ারলাইনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী তদন্তের ধাপ নির্ধারণ করেছে। উভয় বিমানই এখন টেকনিক্যাল চেকের অধীনে রয়েছে এবং কোনো অতিরিক্ত ক্ষতি না পাওয়া পর্যন্ত উড্ডয়ন পুনরায় শুরু হবে না।
এই ধরনের ঘটনা এয়ারলাইন শিল্পের জন্য অপারেশনাল ঝুঁকি বাড়ায়। উড্ডয়ন রুটে অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষ বিমানবন্দর পরিচালনা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়ার দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করে, যা এয়ারলাইনগুলোর সময়সূচি ও গ্রাহক সন্তুষ্টিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো উভয়ই ভারতের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ ক্যারিয়ার, এবং তাদের রুট নেটওয়ার্কে কোনো ব্যাঘাত সরাসরি আয় ও বাজার শেয়ারকে প্রভাবিত করতে পারে। গ্রাউন্ডেড বিমানের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও পরীক্ষা খরচ বাড়ে, পাশাপাশি বিকল্প বিমান বা পুনঃবুকিংয়ের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।
বাজার পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেন, এয়ারলাইনগুলোর নিরাপত্তা রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগকারীর আস্থা গড়ে ওঠে। সাম্প্রতিক মাসে এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো উভয়েরই কিছু প্রযুক্তিগত ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সমস্যার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, যা শেয়ার মূল্যের অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
DGCA-র পূর্ববর্তী তদন্তের মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার A350 ইঞ্জিনে কার্গো কন্টেইনার আটকে যাওয়া এবং বেঙ্গালুরুতে ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচের ত্রুটি অন্তর্ভুক্ত। এসব ঘটনা একত্রে ভারতের উড্ডয়ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর তীব্র নজরদারি বাড়িয়েছে।
বিমানবন্দরের পরিচালনায় সুনির্দিষ্ট ট্যাক্সি রুট ও সিগন্যালিং সিস্টেমের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি, যাতে একই ধরনের সংস্পর্শ এড়ানো যায়। এয়ারলাইনগুলোও পাইলট প্রশিক্ষণ ও গ্রাউন্ড স্টাফের সমন্বয় বাড়িয়ে নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, বিমানবন্দরের অপ্রত্যাশিত ঘটনা বিমান চলাচলের সামগ্রিক দক্ষতাকে হ্রাস করে, যা ভ্রমণ সময় বৃদ্ধি, জ্বালানি খরচ বাড়া এবং গ্রাহকের অতিরিক্ত ব্যয় ঘটাতে পারে। এ ধরনের ব্যয় শেষ পর্যন্ত টিকিটের দামে প্রতিফলিত হতে পারে।
বিনিয়োগকারী ও বীমা সংস্থাগুলোও এয়ারলাইনগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়নে এই ধরনের ঘটনা বিবেচনা করে, যা প্রিমিয়াম রেট ও কভারেজ শর্তে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে, এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো উভয়েরই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, মুম্বাইতে ঘটিত উইংটিপ সংস্পর্শ উভয় এয়ারলাইনকে অপারেশনাল ও আর্থিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। যদিও কোনো আঘাতের রিপোর্ট নেই, তবে তদন্তের ফলাফল ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নীতি ও বাজারের আস্থায় প্রভাব ফেলবে।



