ঢাকা, জাতীয় প্রেস ক্লাব – জাতীয় সমীক্ষা প্রকাশের পর, প্রাক্তন আওয়ামী লীগ ভোটারদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের বেশি এখন বিএনপি‑এর দিকে ঝুঁকছে বলে জানা গেছে। সমীক্ষা পরিচালনা করেছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন, এবং ফলাফল আজ দেশের প্রধান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, পূর্বে আওয়ামী লীগকে সমর্থনকারী ৪৮ শতাংশ ভোটার এখন বিএনপি‑কে পছন্দের প্রথম বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই পরিবর্তন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।
একই সময়ে, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন এমন ৩৭.৪ শতাংশ ভোটার জামায়াত-এ-ইসলামি‑কে তাদের পছন্দের দল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এটি দেশের ধর্মীয় দলগুলোর প্রতি নতুন আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
ভোটার অংশগ্রহণের ইচ্ছা উচ্চ মাত্রায় রয়েছে; ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে ইচ্ছুক বলে জানান। তবে প্রায় আট শতাংশ ভোটার এখনও অনিশ্চিত বা ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন।
সমীক্ষার ফলাফল কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশনের কৌশল সমন্বয়কারী জাকারিয়া পলাশের মাধ্যমে জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থাপিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সমীক্ষা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও সামাজিক গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাপকভাবে পরিচালিত হয়েছে।
প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভোটারদের জন্য দুর্নীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। ৬৭.৩ শতাংশ respondents দুর্নীতিকে শীর্ষ সমস্যারূপে চিহ্নিত করেছেন, যা সরকারী স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার দাবিকে জোরদার করে।
ধর্মীয় বিষয়ের গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কম; মাত্র ৩৫.৯ শতাংশ ভোটার ধর্মকে মূল বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, তবে ভোটাররা নীতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বয়স ও লিঙ্গ নির্বিশেষে ভোটাররা এমন নেতাকে পছন্দ করেন, যিনি সাধারণ মানুষের সমস্যায় মনোযোগ দেন এবং কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে সক্ষম। ব্যক্তিগত আকর্ষণ বা ক্যারিশমার চেয়ে সহানুভূতি, জবাবদিহিতা এবং শাসনক্ষমতাকে বেশি মূল্যায়ন করা হয়েছে।
মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমকে সবচেয়ে প্রভাবশালী তথ্যসূত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অধিকাংশ ভোটার একাধিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাজনৈতিক তথ্য গ্রহণ করেন, যা ঐতিহ্যবাহী ও ডিজিটাল মিডিয়ার সমন্বয়কে নির্দেশ করে।
নির্বাচন দিবসের নিরাপত্তা নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগও সমীক্ষায় উঠে এসেছে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বেশি চিন্তিত, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার চেয়ে নিরাপদ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা বেশি উল্লেখ করেছেন।
ভোটারদের মধ্যে ভোট দমন, ভোট গেরাওয়া এবং ব্যালট স্টাফিংয়ের ভয় সর্বত্র সমানভাবে দেখা গেছে, যা সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে সাধারণ উদ্বেগের বিষয়। এই নিরাপত্তা উদ্বেগ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
সার্বিকভাবে, সমীক্ষা দেখায় যে দেশের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার দুর্নীতি মোকাবেলা, স্বচ্ছ শাসন এবং নিরাপদ ভোটদান প্রক্রিয়ার দিকে কেন্দ্রীভূত। এই ফলাফল নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে দলগুলোর নীতি গঠনে প্রভাব ফেলবে।



