26 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবালুচিস্তানে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আক্রমণে ২৫০‑এরও বেশি প্রাণহানি

বালুচিস্তানে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আক্রমণে ২৫০‑এরও বেশি প্রাণহানি

বালুচিস্তান প্রদেশে শনিবার থেকে চালু হওয়া সমন্বিত সশস্ত্র আক্রমণে ২৫০ টির বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে গৃহযুদ্ধের পরিণতি এখনো শেষ হয়নি। এই হামলা গুলিতে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও সরকারী বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ দেখা গেছে, আর নিরাপত্তা বাহিনী এখনও শত্রুদের অনুসরণে লিপ্ত।

বালুচিস্তান প্রদেশে দশকের পর দশক ধরে বালুচি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ চলমান, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী, বিদেশি নাগরিক এবং অ-স্থানীয় পাকিস্তানিদের লক্ষ্য করে নিয়মিত আক্রমণ করা হয়। এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধি এবং আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়।

একজন উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ না করে কথা বলেছেন, জানিয়েছেন যে চলমান অ্যান্টি-টেরর অপারেশনে ১৯৭ জন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে সমন্বিত আক্রমণে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ২২ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

সপ্তাহান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠী ব্যাংক, কারাগার, পুলিশ স্টেশন এবং সামরিক ঘাঁটি দখল করার চেষ্টা করে, ফলে কিছু জেলায় এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে লড়াই চলমান। নিরাপত্তা বাহিনী এই এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করতে ব্যস্ত, তবে পুরোপুরি শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এখনো বাকি।

বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সারফরাজ বুগতি কুয়েতা শহরে একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে আক্রমণিত সব জেলা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী শত্রুদের তাড়া চালিয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, “আমরা তাদের পিছু ধরি, সহজে ছাড়ব না।”

বালুচি লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই আক্রমণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত এই গোষ্ঠি জানিয়েছে যে তারা সামরিক ঘাঁটি, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়েছে।

বিএলএ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানিদের এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর আক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত বছরই তারা ৪৫০ যাত্রীসহ একটি ট্রেনকে লক্ষ্য করে দুই দিনের সন্ত্রাসী অবরোধ চালায়, যা বহু প্রাণহানির কারণ হয়।

জাতিসংঘের একটি প্রতিনিধিত্বকারী মঙ্গলবার এই আক্রমণকে “নৃশংস এবং নীরস” বলে নিন্দা করেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারী তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে, যা ঘটনার কারণ, দায়িত্বশীল গোষ্ঠী এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি বিশ্লেষণ করবে। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে শিকারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

বালুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অস্থির, এবং সরকারী বাহিনী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা উচ্চ। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্কতা বজায় রেখে এলাকায় নিয়মিত পেট্রোল চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত হামলা রোধ করা যায়।

অবশেষে, এই আক্রমণ দেশের নিরাপত্তা নীতি ও মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনার সংকেত দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মোকাবিলা কঠিন হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments