অর্থনীতিবিদ অনু মুহাম্মদ গতকাল বিকেলে ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অনুষ্ঠিত সমবেত র্যালিতে interim সরকারের ইউএই ভিত্তিক বন্দর অপারেটর DP World‑এর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT) দীর্ঘমেয়াদী কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের পদক্ষেপকে জাতীয় স্বার্থের বিরোধী বলে অভিযুক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য interim সরকারের কোনো আইনগত ক্ষমতা বা অধিকার নেই এবং তা ত্বরিত ও জবরদস্তি পদ্ধতিতে অগ্রসর হচ্ছে।
র্যালিটি ডেমোক্রেটিক রাইটস কমিটি আয়োজন করে, যা বন্দর কর্মীদের কাজ বন্ধের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি DP World চুক্তি প্রত্যাহারের দাবি জানায়। অংশগ্রহণকারীরা interim সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের স্বার্থের উপেক্ষা হিসেবে সমালোচনা করেন।
অনু মুহাম্মদের মতে, ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে, যাতে interim সরকার কীভাবে জাতীয় স্বার্থের বিরোধী চুক্তিতে প্রবেশ করেছে এবং কী বিনিময়ে তা সম্পন্ন হয়েছে তা ব্যাখ্যা করা হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারী কর্মকর্তাদের দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়া রোধ করা উচিত।
অর্থনীতিবিদ উল্লেখ করেন, NCT লিজ চুক্তি অস্বচ্ছতা, অনিয়ম এবং জনস্বার্থের অবহেলার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন, টার্মিনালটি বিদেশি কোম্পানির হাতে হস্তান্তর করলে বন্দর থেকে উৎপন্ন আয় ও ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
অনু আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে সকল পণ্যের শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা DP World চুক্তি সহজতর করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই শুল্ক বৃদ্ধি আমদানি ও রপ্তানি উভয়ের ব্যয় বাড়িয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, একাধিক চুক্তি অস্বচ্ছতা, অযৌক্তিকতা এবং বিদ্যমান নিয়মাবলীর লঙ্ঘনের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসকে তিনি সমালোচনা করেন, যেহেতু তিনি পরামর্শদাতা ও বিশেষ সহকারী হিসেবে বিদেশি কোম্পানি ও রাষ্ট্রের লবিস্টদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা দেশের স্বার্থের বিপরীত কাজের সূচক।
এ পর্যন্ত interim সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, নির্বাচিত সরকারকে এই বিষয়টি পর্যালোচনা করে শ্বেতপত্র প্রকাশের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগের নীতি ও শর্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
বন্দর কর্মীদের কাজ বন্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং জনমত গঠন হচ্ছে। র্যালিতে উত্থাপিত দাবিগুলি যদি সরকারী পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়, তবে DP World চুক্তি পুনর্বিবেচনা, শুল্ক নীতি সংশোধন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সম্ভাবনা বাড়বে।



