মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের মহিলা উঠান বৈঠকে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী মুফতি আমির হামজা আগামী নয় দিন পর ডা. শফিকুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি ইনশাআল্লাহ এই লক্ষ্য পূরণ হবে বলে উল্লেখ করেন।
হামজা উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত-এ-ইসলামির ওপর মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে নারীদের সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে এবং তাদের চরিত্র নিন্দা করা হয়েছে। তিনি এ ধরনের প্রচারণাকে দলের বিরোধী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।
প্রার্থীর মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অনুরূপ হ্যাকিং ঘটেছে। তিনি ১৫ জানুয়ারি ২০০৯-এ বারাক ওবামার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া এবং ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার উদাহরণ দেন, যা তিনি নির্বাচনের আগে ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন।
হামজা জোর দিয়ে বলেন যে, এসব কাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ওপর আল্লাহর বিচার হবে। তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাকে ন্যায়বিচারের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
প্রার্থীর মতে, ডা. শফিকুর রহমান মানবিক গুণে সমৃদ্ধ একজন নেতা, যিনি সকল নাগরিককে সমানভাবে বিবেচনা করেন। তিনি দলীয় বা ধর্মীয় পার্থক্যকে অগ্রাহ্য করে, সকলের জন্য সমান সুযোগের কথা বলেন।
নারী ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হামজা বলেন, সরকারে আসলে নারীরা ঘরে বসে সম্মানজনক কাজ করতে পারবে। হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ ও আয়-উৎপাদনের ব্যবস্থা করে পরিবারিক আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, তিনি উল্লেখ করেন যে সরকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে যাতে পরিবারগুলো অবৈধ কাজের দিকে না ঝুঁকে। এভাবে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
হামজা ভোটারদের দাঁড়িপাল্লায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই ভোটই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সন্ত্রাসী বা ফ্যাসিস্টের উত্থান রোধ করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভোটের সময় দুইটি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রয়োজন হবে, যা দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।
প্রচারণা চলাকালে তিনি ভবিষ্যতে শান্তির সূর্য উদয় হবে এমন রূপক ব্যবহার করে দেশের শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
প্রতিপক্ষের কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে নয় দিনের সময়সীমা দেশের নির্বাচনের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
যদি জামায়াত-এ-ইসলামি অধিকাংশ আসন জিতে নেয়, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে নীতি পরিবর্তন হতে পারে, বিশেষত নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সামাজিক ঐক্যকে জোরদার করার দিকে।
দলটি এখনো কুষ্টিয়া জুড়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভোটের আগে সমর্থকদের সমাবেশ বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।



