গুজরাট জায়ান্টস ২০২৬ উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (WPL) সিজনে পয়েন্ট টেবিলে সরাসরি দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে, তবে Eliminator-এ দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে পরাজিত হয়ে শিরোপা দৌড় শেষ করে। কোচ মাইকেল ক্লিঙ্গার দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সকে উন্নতি হিসেবে উল্লেখ করে, তবে শেষের ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
সিজনের শুরুতে দলটি ধারাবাহিকভাবে কঠিন মুহূর্তে শীতলতা বজায় রাখে, যা পয়েন্ট টেবিলে উচ্চ স্থান অর্জনে সহায়তা করে। গুজরাট জায়ান্টস UP Warriorz-কে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করে, এবং দীর্ঘ সময়ের পর মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিরুদ্ধে জয় অর্জন করে। এই জয়গুলো দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে এবং লিগের মাঝামাঝি পর্যায়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে।
দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে দুইটি শেষ ওভারের ম্যাচে গুজরাট জায়ান্টসের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উভয় ম্যাচই শেষ মুহূর্তে সমাপ্ত হয়, যেখানে সফি ডেভিনের শীতলতা এবং চাপের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া দলকে জয় এনে দেয়। তবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু দলের সঙ্গে দুইটি মুখোমুখি ম্যাচে গুজরাট জায়ান্টসের পরাজয় তাদের লিগ পর্যায়ের সম্ভাব্য শীর্ষস্থান থেকে দূরে রাখে।
সিজনের শেষের দিকে গুজরাট জায়ান্টসের Eliminator ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা নিয়ে শেষ হয়। ক্লিঙ্গার উল্লেখ করেন, “দ্বিতীয় স্থান অর্জন বড় উন্নতি, তবে Eliminator-এ আমরা আমাদের সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে পারিনি। ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের প্রত্যাশিত মানে পৌঁছাতে পারিনি।” এই মন্তব্যটি দলের অভ্যন্তরীণ মিটিংয়ে শেয়ার করা হয়, যেখানে খেলোয়াড়দের উন্নতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
ক্লিঙ্গার আরও বলেন, “এই সিজনে আমরা আমাদের স্কোয়াড সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি। চ্যাম্পিয়নশিপ জিতি হই বা না হই, আগামী বছর কীভাবে উন্নতি করা যায় তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন আমাদের হাতে প্রায় দশ মাসের সময় আছে, যাতে আমরা দেশীয় ও বিদেশি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করে, কিছু সমন্বয় করে, এবং বড় হয়ে ফিরে আসতে পারি।” তিনি দলের দুই বছর ধারাবাহিকভাবে প্লে-অফে পৌঁছানোর বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিয়ে, “এটি আমাদের জন্য সন্তোষজনক, তবে আমরা বড় লক্ষ্য রাখছি,” বলে আশা প্রকাশ করেন।
গুজরাট জায়ান্টসের ২০২৫ এবং ২০২৬ সিজনে ধারাবাহিকভাবে Eliminator-এ পরাজিত হওয়া একটি পুনরাবৃত্তি ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তবে কোচের মতে, এই অভিজ্ঞতা দলকে ভবিষ্যতে উচ্চ চাপের পরিস্থিতিতে আরও দৃঢ় করে তুলবে। তিনি জোর দেন, “যখন আমরা আমাদের সেরা পারফরম্যান্স দেখাই, তখন আমরা যেকোনো দলের মোকাবেলা করতে পারি, কিন্তু শেষের ম্যাচে আমরা সেই স্তরে পৌঁছাতে পারিনি।” এই স্বীকারোক্তি দলকে আত্মমূল্যায়ন ও উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সিজনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গুজরাট জায়ান্টসের পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করা, দলকে পরবর্তী মৌসুমের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি প্রদান করে। যদিও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে পরাজয়গুলো তাদের শীর্ষে পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, তবু দলটি ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করে এবং শেষ ওভারে জয় অর্জন করেছে।
ক্লিঙ্গার দলের প্রস্তুতির জন্য ১০ মাসের সময়কে “দেখার, শিখার এবং টুইক করার” সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে, আমাদের স্কোয়াডে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।” এই পরিকল্পনা গুজরাট জায়ান্টসকে আগামী সিজনে আরও শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করবে।
দলটি এখন পরবর্তী মৌসুমের শিডিউল এবং ট্রান্সফার উইন্ডোর দিকে নজর দিচ্ছে। গুজরাট জায়ান্টসের ব্যবস্থাপনা ইতিমধ্যে নতুন খেলোয়াড়দের সন্ধানে রয়েছে, তবে কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধুমাত্র মূল সংবাদে উল্লেখিত খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই বিশ্লেষণের ভিত্তি হবে।
সারসংক্ষেপে, গুজরাট জায়ান্টসের ২০২৬ সিজন একটি মিশ্র ফলাফল নিয়ে সমাপ্ত হয়েছে। দ্বিতীয় স্থান অর্জন ও শেষ ওভারে জয়গুলো দলকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে, তবে Eliminator-এ পরাজয় এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুয়ের বিরুদ্ধে হারের ফলে উন্নতির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। কোচ ক্লিঙ্গার আশাবাদী যে, পরবর্তী দশ মাসে দলটি যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে ফিরে আসবে এবং শিরোপা জয়ের পথে আরও দৃঢ় হবে।



