সান্ড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সম্প্রতি ‘ওয়ানস আপন এ টাইম ইন হার্লেম’ শিরোনামের ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭২ সালে ডিউক এলিংটনের হার্লেম টাউনহাউসে পরিচালনা করা এই কাজটি উইলিয়াম গ্রিভস ও তার পুত্র ডেভিড গ্রিভসের যৌথ দায়িত্বে তৈরি। চলচ্চিত্রটি ১৬ মিমি ফিল্মে রেকর্ড করা হয়েছে এবং মোট চার ঘণ্টা সময়ের সাক্ষাৎকার ও পারফরম্যান্স ধারণ করে।
চিত্রনাট্যটি হার্লেম রেনেসাঁসের স্বর্ণযুগের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে চায়, যেখানে সেই সময়ের সঙ্গীত, শিল্প ও রাজনৈতিক আন্দোলন একত্রিত হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিয়ানোবাদক ও সুরকার ইউবি ব্লেক এবং ব্যান্ডলিডার নোবেল সিসলে, যারা ‘শাফল অ্যালং’ নামের প্রথম সম্পূর্ণ কৃষ্ণাঙ্গ ব্রডওয়ে শোয়ের জন্য পরিচিত। দুজনই হার্লেমের সৃজনশীল উত্সাহের প্রতীক হিসেবে ঐ সন্ধ্যায় তাদের সঙ্গীত ও কথোপকথন ভাগ করে নেন।
ফটোগ্রাফার জেমস ভ্যান ডার জি উপস্থিত ছিলেন, যিনি পূর্বে মার্কাস গার্ভি ও কবি কাউন্টি কালেনের চিত্রায়ন করে পরিচিত ছিলেন। গার্ভি ও কালেন উভয়ই ১৯৪০-এর দশকে মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাদের ঐতিহাসিক অবদান এখনও আলোচনার বিষয়। জি তাদের ছবি তোলার পাশাপাশি কালেনের বিধবা ইডা মে কালেনের সঙ্গে কথোপকথনও রেকর্ড করেন, যাতে কবির সাহিত্যিক উত্তরাধিকার যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয়।
চিত্রশিল্পী আরন ডগলাসের কাজও এই ডকুমেন্টারিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ডগলাসের চিত্রকর্মকে তিনি সময়ের সামাজিক ও জাতিগত সংগ্রামের ভিজ্যুয়াল প্রকাশ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তার পেইন্টিংগুলোকে শিল্পের মাধ্যমে সক্রিয়তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা হার্লেমের বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
‘দ্য গ্রেট মাইগ্রেশন’ নামে পরিচিত ঐতিহাসিক প্রবাহের ফলে বহু কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান পরিবার উত্তর দিকে স্থানান্তরিত হয়, যা তাদেরকে শিক্ষা, স্বাধীনতা ও স্ব-প্রকাশের নতুন সুযোগ দেয়। এই প্রেক্ষাপটে হার্লেম রেনেসাঁসের উত্থানকে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লব হিসেবে দেখা হয়। চলচ্চিত্রটি এই ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে, যেখানে বিভিন্ন শিল্পী ও বুদ্ধিজীবী একত্রে সমৃদ্ধি ও সৃজনশীলতা ভাগাভাগি করেন।
‘ওয়ানস আপন এ টাইম ইন হার্লেম’ দর্শকদের জন্য হার্লেম রেনেসাঁসের একটি সমন্বিত পরিচয় প্রদান করে। চলচ্চিত্রের প্রতিটি দৃশ্যই নতুন নাম ও ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করে, যা দর্শককে পরবর্তী সময়ে গবেষণার জন্য অনুপ্রাণিত করে। নামগুলো শোনার সঙ্গে সঙ্গে নোট নেয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগে, এবং পরে সেসব ব্যক্তির জীবনী অনুসন্ধান করা যায়।
চলচ্চিত্রের নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বনির্ভরভাবে পরিচালিত হয়েছে। গ্রিভস পরিবার চারজন ক্যামেরাম্যানের একটি ছোট দল গঠন করে, যার মধ্যে ডেভিড গ্রিভসও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি দুইজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার কাজ করেন, যা শুটিংয়ের গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়তা করে। এই সীমিত সম্পদে তৈরি কাজটি স্বতন্ত্র সৃজনশীলতা ও দৃঢ়সংকল্পের উদাহরণ।
মোট দৈর্ঘ্য প্রায় এক ঘণ্টা চুয়ালিশ মিনিট, যা দর্শকদেরকে সংক্ষিপ্ত সময়ে সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু উপস্থাপন করে। পরিচালনা দায়িত্বে ছিলেন উইলিয়াম গ্রিভস এবং তার পুত্র ডেভিড গ্রিভস, যারা একসঙ্গে কাজের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেন। তাদের যৌথ দৃষ্টিভঙ্গি চলচ্চিত্রের বর্ণনাকে সুসংহত ও প্রভাবশালী করে তুলেছে।
সান্ড্যান্সে প্রথম প্রদর্শনের পর দর্শক ও সমালোচকরা চলচ্চিত্রের স্বতন্ত্রতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। স্বল্প বাজেটের সত্ত্বেও কাজটি পেশাদার মানের চিত্র ও শব্দের সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। এই ধরনের স্বতন্ত্র উদ্যোগকে চলচ্চিত্র শিল্পে একটি প্রতিরোধের রূপ হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে।
চলচ্চিত্রটি দেখার পর অনেক দর্শকই হার্লেম রেনেসাঁসের বিশাল ব্যক্তিত্বের তালিকা লিখে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। নামগুলোকে অনুসন্ধান করে অতীতের সৃজনশীল শক্তিকে পুনরায় আবিষ্কারের প্রেরণা পায়। এই প্রক্রিয়া দর্শকদেরকে ঐতিহাসিক জ্ঞানের গভীরে প্রবেশের সুযোগ দেয়।
হার্লেম রেনেসাঁসের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আজকের শিল্প ও সমাজে এখনও প্রভাবশালী। ‘ওয়ানস আপন এ টাইম ইন হার্লেম’ সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক দর্শকের কাছে পুনরায় উপস্থাপন করে, যাতে নতুন প্রজন্মের মানুষও তার মূল্য বুঝতে পারে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হার্লেমের সৃজনশীল উত্সাহের ধারাকে ভবিষ্যতে সংরক্ষণ করা সম্ভব।
এই ডকুমেন্টারিটি বিশেষ করে সংস্কৃতি, ইতিহাস ও শিল্পে আগ্রহী পাঠকদের জন্য অপরিহার্য। হার্লেমের উজ্জ্বল অতীতকে জানার মাধ্যমে বর্তমানের সৃজনশীল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার নতুন দৃষ্টিকোণ পাওয়া যায়। তাই চলচ্চিত্রটি দেখার পর সংশ্লিষ্ট বই, আর্ট ও সঙ্গীতের সন্ধান করা সুপারিশ করা যায়।
সংক্ষেপে, ‘ওয়ানস আপন এ টাইম ইন হার্লেম’ একটি স্বনির্ভর চলচ্চিত্র প্রকল্প, যা হার্লেম রেনেসাঁসের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে দৃশ্যমান করে তুলেছে। সান্ড্যান্সে এর সফল প্রিমিয়ার ভবিষ্যতে আরও স্বতন্ত্র ডকুমেন্টারির জন্য পথ প্রশস্ত করবে। দর্শকরা এই কাজের মাধ্যমে অতীতের মহান শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন এবং তাদের সৃষ্টিকর্ম থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারবেন।



