68তম গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠান রবিবার সিবিএস-এ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। নিলসেনের একই দিনের রেটিং ডেটা অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানটি গড়ে ১৪.৪১ মিলিয়ন দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এটি গত বছরের তুলনায় প্রায় ছয় শতাংশ কম।
২০২৫ সালে গ্র্যামি শোটি ১৫.৪ মিলিয়ন দর্শকের সঙ্গে শেষ হয়েছিল, যা এই বছরের সংখ্যা থেকে প্রায় এক মিলিয়ন বেশি। সিবিএস-এ শেষবারের মতো এই অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হওয়ায়, রেটিংয়ে সামান্য হ্রাস দেখা যায়।
নিলসেনের “বিগ ডেটা প্লাস প্যানেল” পদ্ধতি ব্যবহার করে সংগ্রহ করা এই সংখ্যা, টেলিভিশন শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত। রেটিংয়ে হ্রাসের মূল কারণ হিসেবে, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা এবং তরুণ দর্শকদের পরিবর্তিত পছন্দ উল্লেখ করা হয়।
গ্র্যামি শোটি ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শুরু হয়, এবং টেলিভিশন স্ক্রিনে প্রায় তিন ঘণ্টা চলেছিল। অনুষ্ঠানটি সঙ্গীত শিল্পের সর্বশেষ সাফল্য ও সৃজনশীলতা তুলে ধরতে লক্ষ্য করেছিল।
এই বছরের অনুষ্ঠানে ট্রেভর নোয়া হোস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এবং তিনি বহু সঙ্গীতশিল্পীর পারফরম্যান্সের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছেন। তবে হোস্টের উপস্থিতি রেটিংয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে কিনা স্পষ্ট নয়।
গ্র্যামি পুরস্কার শোতে মোট ২৪টি ক্যাটেগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়, যার মধ্যে প্রধান পুরস্কার “আলবাম অব দ্য ইয়ার” এবং “রেকর্ড অব দ্য ইয়ার” অন্তর্ভুক্ত। এই ক্যাটেগরিগুলি সাধারণত সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা আকর্ষণ করে।
সিবিএস-এ শেষবারের মতো গ্র্যামি শোটি সম্প্রচারিত হওয়ায়, নেটওয়ার্কটি ভবিষ্যতে অন্যান্য স্ট্রিমিং সেবা বা নেটওয়ার্কের সঙ্গে চুক্তি করার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিবর্তন টেলিভিশন রেটিংয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
রেটিং হ্রাসের পাশাপাশি, বিজ্ঞাপনদাতারা এই ধরনের বড় অনুষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত দৃষ্টিগোচরতা মূল্যায়ন করে। ২০২৬ সালের গ্র্যামি শোতে বিজ্ঞাপন স্লটের দাম পূর্বের তুলনায় সামান্য কমে থাকতে পারে।
শিল্প বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, লাইভ টেলিভিশন ইভেন্টের দর্শকসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা সামগ্রিক মিডিয়া পরিবেশের পরিবর্তনের প্রতিফলন। তবে গ্র্যামি শো এখনও সঙ্গীত শিল্পের অন্যতম প্রধান মঞ্চ হিসেবে রয়ে গেছে।
সামাজিক মিডিয়ায় গ্র্যামি শোয়ের ক্লিপ ও হাইলাইট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা ঐতিহ্যবাহী টেলিভিশন রেটিংয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন দর্শকগোষ্ঠী তৈরি করে।
এই বছরের অনুষ্ঠানে বেশ কিছু নতুন শিল্পীর পারফরম্যান্স দেখা যায়, যা ভবিষ্যৎ সঙ্গীত প্রবণতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
শেষ পর্যন্ত, ১৪.৪১ মিলিয়ন দর্শকের সংখ্যা সিবিএস-এ গ্র্যামি শোর শেষ প্রচারকে চিহ্নিত করে, এবং রেটিং হ্রাসের পরেও অনুষ্ঠানটি সঙ্গীত জগতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান বজায় রাখে।
নিলসেন ডেটা অনুযায়ী, লাইভ দর্শকের পাশাপাশি ৩.৫ শতাংশ দর্শক রেকর্ডেড বা ডিভিআর মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি দেখেছে। এই প্রবণতা লাইভ টিভি রেটিংকে প্রভাবিত করে।
অনুষ্ঠানে অতীতের আইকনিক পারফরম্যান্সের স্মরণীয় মুহূর্তও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা দর্শকদের মধ্যে আবেগময় সাড়া জাগিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, গ্র্যামি শোয়ের রেটিং হ্রাস সঙ্গীত ও টেলিভিশন শিল্পের পরিবর্তনশীল ভোক্তা আচরণকে প্রতিফলিত করে, তবে অনুষ্ঠানটির সাংস্কৃতিক প্রভাব অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।



