বাংলাদেশ সরকার আগামী আর্থিক বছরে মোট ২,১০,০০০ মেট্রিক টন সার সংগ্রহের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে। এতে ৮০,০০০ টন ডিএপি, ৭০,০০০ টন ইউরিয়া এবং ৬০,০০০ টন টিএসপি অন্তর্ভুক্ত, এবং মোট ব্যয় প্রায় ১,৩৭১ কোটি ৯১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭৫ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। অনুমোদনটি মঙ্গলবার সচিবালয়ের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে নেওয়া হয়।
বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে ৪০,০০০ মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে। এই লেনদেনের জন্য ব্যয় হবে ৩১৯ কোটি ৫১ লাখ ৮ হাজার টাকা, এবং প্রতি টন দামের হার ৬৫১ মার্কিন ডলার নির্ধারিত হয়েছে।
একই চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে অতিরিক্ত ৩০,০০০ মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এই অংশের ব্যয় ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩০ টাকা, এবং প্রতি টন দামের হার ৫০১.৩৩ মার্কিন ডলার নির্ধারিত হয়েছে। একই পরিমাণের আরেকটি টিএসপি ক্রয়ের প্রস্তাবও উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি অনুমোদন করেছে, যার শর্তাবলী পূর্বের মতোই।
সৌদি আরবের মা’আদেন এবং বিএডিসি এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে ২০২৬ সালের প্রথম লটে ৪০,০০০ মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে। এই লেনদেনের জন্য ব্যয় ৩২৩ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, এবং প্রতি টন দামের হার ৬৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারিত হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিনেটস কোম্পানি থেকে ৪০,০০০ মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এই ক্রয়ের মোট ব্যয় ২০৫ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪০ টাকা, যা বাজারে ইউরিয়া মূল্যের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক বলে বিবেচিত।
এই বৃহৎ পরিসরের সার ক্রয় পরিকল্পনা দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং শস্যের ফলন উন্নত করতে লক্ষ্য রাখে। ডিএপি, ইউরিয়া এবং টিএসপি মূল ফসফরাস, নাইট্রোজেন ও পটাশিয়াম সরবরাহকারী সার, যা মৌসুমী চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকার এই ক্রয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওঠানামা থেকে রক্ষা পেতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখতে চায়।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের বড় পরিমাণের আমদানি দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রপ্তানি সম্ভাবনাও উন্মুক্ত করবে। তবে একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের ওপর নজর রাখতে হবে, কারণ ডলার ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের ফলে মুদ্রা রিজার্ভে চাপ পড়তে পারে।
বাংলাদেশ সরকারের এই পদক্ষেপটি কৃষি সেক্টরের আর্থিক পরিকল্পনা ও বাজেটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং আগামী কয়েক বছর ধরে কৃষি ইনপুটের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারী অনুমোদন ও চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খল গঠন এবং গুদামজাতকরণ প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে, যা কৃষকদের সময়মতো সারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে।
সারসংক্ষেপে, ২,১০,০০০ মেট্রিক টন সারের এই বৃহৎ ক্রয় পরিকল্পনা দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াতে, বাজারের অস্থিরতা কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



