আর্সেনাল কারাবাও কাপের অর্ধফাইনালে চেলসিকে ৪-২ সমষ্টিগত স্কোরে পরাজিত করে ফাইনালের পথে অগ্রসর হয়েছে। শেষ মুহূর্তে কাই হাভার্টজের গোল ম্যাচকে ২-১ করে তুলেছিল, যা সামগ্রিকভাবে ৪-২ জয়ের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়ায়। গেমটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই দলই তৃতীয় দিন পরপর খেলা করছিল, ফলে শারীরিক চাপ বাড়ে।
কাই হাভার্টজের স্টপেজ সময়ের গোল চেলসির প্রতিরোধ ভেঙে দেয় এবং আর্সেনালের সমষ্টিগত সুবিধা বাড়ায়। প্রথম লেগে আর্সেনাল ২-১ এগিয়ে ছিল, তবে চেলসির তৃতীয় গোলের পর স্কোর সমান হয়ে যায়। হাভার্টজের শেষ গোলই ম্যাচের সমাপ্তি নির্ধারণ করে, ফলে আর্সেনাল ফাইনালে স্থান নিশ্চিত করে।
আর্সেনালের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার সিটি অথবা নিউক্যাসল হতে পারে, যেহেতু উভয় দলই সেমিফাইনালে জয়লাভ করেছে। ফাইনালটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হবে, যা আর্সেনালের জন্য দীর্ঘদিনের প্রথম ফাইনাল হবে। শেষ মৌসুমে আর্সেনাল এফএ কাপ জিতেছিল, আর এখন তারা চতুর্গুণ জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
প্রধান লিগে আর্সেনাল শীর্ষে ছয় পয়েন্টের ব্যবধানে রয়েছে, যা তাদেরকে শিরোপা রক্ষার দৃঢ় ভিত্তি দেয়। তিন বছর ধারাবাহিকভাবে রানার‑আপ হওয়া সত্ত্বেও এখন প্রথম স্থান দখল করেছে, ফলে দলটি আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। কোচ আর্টেটা এই জয়কে দলীয় শক্তি ও মনোবলের পুষ্টি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মাইকেল আর্টেটা বলেছিলেন, “এগুলো আমাদের দেহে যে ভিটামিনের মতো, তিন দিনে একবার খেলা হয়, তাই এই মুহূর্তগুলো আমাদের জন্য জাদুকরী।” তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ অর্জিত এই মুহূর্তগুলো দলকে একত্রে শক্তিশালী করে। আর্টেটা দলের উল্লাস, হাসি ও উদ্যমকে ভবিষ্যৎ সফলতার সূচক হিসেবে দেখেছেন।
ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ডিক্ল্যান রাইসও দলকে অতীতের ভুল না করে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমাদের মধ্যে এমন একটি গোষ্ঠী আছে যারা সত্যিই জেতার ইচ্ছা রাখে।” রাইসের মতে, গত কয়েক বছর শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত শিরোপা না পাওয়া দলকে এই মৌসুমে অতিরিক্ত আগ্রহ ও জ্বালানি দিচ্ছে। তিনি ফাইনালে অংশ নেওয়া নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে বলেছেন, “এটি আমাদের জন্য অসাধারণ।”
চেলসির প্রধান কোচ লিয়াম রোজেনিয়র দলের পরাজয় নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কারণ ক্যাপ্টেন রিস জেমস এবং পেড্রো নেটোর দুজনই আঘাতের কারণে খেলতে পারেননি। রোজেনিয়র বলেছিলেন, “তারা আজ রাতে খুব বেশি ব্যথা ভোগ করছিলেন, ফলে মাঠে নামতে পারলেন না।” এই অনুপস্থিতি চেলসির কৌশলগত পরিবর্তনকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং শেষ পর্যন্ত দলকে পরাজয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আর্সেনালের ফাইনাল প্রস্তুতি এখন থেকে তীব্র হবে, যেখানে শারীরিক পুনরুদ্ধার ও কৌশলগত পরিকল্পনা সমান গুরুত্ব পাবে। দলটি আগামী সপ্তাহে প্রশিক্ষণ শিবিরে মনোযোগ দেবে এবং ফাইনালের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের বিশ্লেষণ করবে। ভক্তদের প্রত্যাশা বাড়ছে, কারণ এই জয়টি দলকে নতুন শিরোপা জয়ের পথে দৃঢ় করে তুলেছে।



