19 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিককুয়েতের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক মাসে ৩,৫০০ প্রবাসীকে বহিষ্কার করেছে

কুয়েতের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক মাসে ৩,৫০০ প্রবাসীকে বহিষ্কার করেছে

কুয়েতের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় গত মাসে প্রায় তিন হাজার পাঁচশত বিদেশি নাগরিককে দেশের বাসস্থান ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের কারণে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় মিডিয়ার বার্তা অনুযায়ী, এই পদক্ষেপে কোন নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের উল্লেখ করা হয়নি, তবে বহিষ্কৃতদের মধ্যে অবৈধভাবে কাজ করা শ্রমিক, পলাতক এবং অন্যান্য ইমিগ্রেশন বিধি লঙ্ঘনকারী অন্তর্ভুক্ত। কুয়েতের সরকার এই অভিযানকে দেশের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত অভিযান চালিয়ে এই বহিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। অভিযানে অবৈধ কর্মসংস্থান, ভিসা নিয়মের লঙ্ঘন এবং পলাতক অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করা হয়েছে। এই ধরনের অপারেশন কুয়েতের সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধারাবাহিক নীতি, যেখানে হাজার হাজার বিদেশি নাগরিককে একই রকম পদক্ষেপে দেশের সীমা থেকে বের করা হয়েছে।

কুয়েতের সরকার জানিয়েছে, এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা শ্রমবাজারের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অবৈধ কর্মী প্রবাহ রোধের জন্য অপরিহার্য। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, কুয়েতের অর্থনৈতিক কাঠামোতে বিদেশি শ্রমিকের বড় অংশগ্রহণের কারণে ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এ ধরনের বড় আকারের বহিষ্কার প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করা হয়, যেখানে শ্রমিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় কর্মসংস্থান রক্ষার চাহিদা বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে, কুয়েতের এই পদক্ষেপকে অঞ্চলের শ্রম নীতি পুনর্গঠনের একটি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিকের মতে, “কুয়েতের কঠোর ইমিগ্রেশন নিয়মগুলো গালফ অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে তাদের নিজস্ব শ্রম নীতি পুনর্বিবেচনা করতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।” একই সঙ্গে, এই ধরনের অপারেশনগুলো দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।

কুয়েতের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে আরও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, পরবর্তী মাসে নতুন ইমিগ্রেশন বিধি প্রণয়ন এবং বিদ্যমান নিয়মের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ কর্মী প্রবাহ কমানো হবে। এছাড়া, কুয়েতের শ্রম মন্ত্রণালয় বিদেশি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করার কথা বিবেচনা করছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই বহিষ্কার কার্যক্রমের ফলে কুয়েতের শ্রমবাজারে স্বল্পমেয়াদে শ্রমিক ঘাটতি দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে নির্মাণ ও সেবা খাতে যেখানে বিদেশি কর্মী প্রধান। তবে সরকার দাবি করে, স্বল্পমেয়াদী ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে পূরণ হবে। অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, কুয়েতের এই কঠোর নীতি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শ্রমিক ভিসা ও কাজের শর্তাবলী সংক্রান্ত আলোচনায়।

সারসংক্ষেপে, কুয়েতের সাম্প্রতিক বহিষ্কার অভিযান দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের বৃহত্তর কৌশলের অংশ, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গালফ অঞ্চলের শ্রম নীতি পুনর্গঠনের একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এই নীতি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর প্রভাব কী হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments