আর্সেনাল এবং চেলসির মধ্যে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় কাপের সেমি‑ফাইনাল দ্বিতীয় লেগে, আর্সেনাল ১-০ গোলে জয়ী হয়ে ওয়েম্বলি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ম্যাচটি লন্ডনের স্ট্যাডিয়াম গার্ডেন-এ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কাই হাভার্টসের ইনজুরি টাইমে করা একক গোলই ফলাফল নির্ধারণ করে।
প্রথম লেগে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে চেলসির ৩-২ সুবিধা থাকলেও, দ্বিতীয় লেগে উভয় দলই সতর্কতা বজায় রাখে এবং গেমটি বেশ ট্যাকটিক্যাল হয়ে ওঠে। আর্সেনাল প্রথমার্ধে বেশি আক্রমণাত্মক না হয়ে রক্ষা করার দিকে মনোযোগ দেয়, আর চেলসি রোজেনিয়র তার দলকে ব্যাক থ্রি দিয়ে সাজিয়ে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন করে।
চেলসির কোচ লিয়াম রোজেনিয়র কোলে পার্সকে বেঞ্চে রেখে ব্যাক থ্রি ব্যবহার করেন, যা আর্সেনালের ডিফেন্সকে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং করে তোলে। তবে ক্যাপ্টেন রিস জেমস ফিটনেস টেস্টে ফেল হওয়ায় ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি, ফলে ডিফেন্সে অভিজ্ঞতার ঘাটতি দেখা যায়। এছাড়া মার্টিন ওডেগার মাইনর মাসল ইনজুরির কারণে অনুপস্থিত ছিলেন, আর আর্টেটা বুকায়ো সাকার হিপের সমস্যার ঝুঁকি এড়াতে তাকে বিশ্রাম দেন।
প্রথমার্ধে চেলসির আক্রমণ সীমিত ছিল; তারা মাত্র দুইটি শট টার্গেটের দিকে পাঠাতে সক্ষম হয়। আর্সেনালের প্রতিপক্ষের সংগঠিত রক্ষণে চেলসির শটের সংখ্যা কমে যায়, ফলে গেমের প্রবাহে বড় পার্থক্য দেখা যায় না। তবে আর্সেনালের আক্রমণেও সামান্য জটিলতা দেখা যায়, কারণ তাদের মূল খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি আক্রমণকে ততটা তীক্ষ্ণ করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনাল কিছুটা বেশি চাপ দেয়, তবে গেমটি এখনও সমানভাবে চলতে থাকে। আর্টেটা ম্যাচের আগে তার দলকে ইউরোপের সর্বাধিক রোমাঞ্চকর দল বলে গর্বিত করেছিলেন, তবে মাঠে তা সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ পায়নি। আর্সেনালের আক্রমণিক ধারাবাহিকতা কমে যাওয়ায় চেলসির রক্ষণে চাপ কমে যায়, ফলে গেমের সময়সূচি আরও টাইট হয়ে ওঠে।
গেমের শেষের দিকে, ইনজুরি টাইমে কাই হাভার্টসের দ্রুতগতির দৌড়ে গোলের সুযোগ তৈরি হয়। হাভার্টস তার প্রাক্তন ক্লাবের বিপক্ষে একক চালিয়ে বলটি জালে পাঠিয়ে ম্যাচের স্কোর ১-০ করে। এই গোলই শেষ মুহূর্তে আর্সেনালের জয় নিশ্চিত করে এবং দলকে ফাইনালের পথে নিয়ে যায়।
এই জয় আর্সেনালের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তারা ১৯৯৩ সালের পর থেকে এই প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতেনি এবং গত মৌসুমে নিউক্যাসলের কাছে ৪-০ সমষ্টিগত পরাজয়ের পর সেমি‑ফাইনালে বাদ পড়েছিল। আর্টেটা এবং তার দল এখন ছয় বছর আগে আর্টেটার প্রথম মৌসুমে জয় করা এফএ কাপের পর প্রথম ট্রফি জয়ের পথে।
ফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার সিটি, যা বর্তমানে চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা লড়াইয়ে আর্সেনালের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ম্যানচেস্টার সিটি যদি ফাইনালে পৌঁছায়, তবে দু’দলই কোয়ারাপল অর্জনের স্বপ্নে এগিয়ে যাবে, যা দেশের ফুটবলের জন্য বড় উত্তেজনা নিয়ে আসবে।
পরবর্তী ম্যাচে আর্সেনাল ওয়েম্বলিতে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে দু’দলই শিরোপা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। উভয় দলের ফ্যানরা এই ম্যাচকে দেশের ফুটবলের অন্যতম বড় ইভেন্ট হিসেবে দেখছে, এবং স্টেডিয়াম গার্ডেন-এ অনুষ্ঠিত এই সেমি‑ফাইনাল ম্যাচটি ইতিমধ্যে ইতিহাসের পাতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে।



