গাজা উপত্যকার রাফা সীমান্তে সোমবার পুনরায় খোলার পর দুই গাজা নারী ও তাদের সন্তানসহ সীমান্ত পার হয়ে গেছেন। তারা ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে গাজা স্ট্রিপের একটি সামরিক চেকপয়েন্টে পৌঁছানোর সময় স্থানীয় একটি ফিলিস্তিনি মিলিশিয়া দলের দ্বারা অনুসন্ধান করা হয়।
সেই নারীরা জানিয়েছেন, ইজরায়েলীয় সৈন্যদের সঙ্গে গাড়িতে নিয়ে গিয়ে নিকটবর্তী চেকপয়েন্টে পৌঁছানো হয়, যেখানে আবু শাবাব নামে পরিচিত মিলিশিয়ার সদস্যরা তাদের এবং তাদের সামগ্রী পরীক্ষা করে। অনুসন্ধানকারী দলটির মধ্যে এক নারী ছিলেন, যিনি সরাসরি নারীদের ওপর শারীরিক পরীক্ষা পরিচালনা করেন।
অনুসন্ধানের সময় কোনো কথোপকথন না করে শুধুমাত্র শারীরিক পরীক্ষা করা হয়, এরপর ইজরায়েলীয় সৈন্যদের কাছে নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত প্রশ্ন করা হয়। উভয় দলই একই স্থানে সমন্বয় করে কাজ করছিল বলে নারীরা উল্লেখ করেছেন।
ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী এই বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে এবং শিন বেট থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে মিলিশিয়া এবং ইজরায়েলীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রয়েছে।
আবু শাবাব মিলিশিয়া হ্যামাসের বিরোধী গোষ্ঠী, যা ইজরায়েল থেকে সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ পায় এবং রাফা অঞ্চলে ইজরায়েলীয় সামরিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে কাজ করে। গোষ্ঠীর প্রধান ঘাসান আল-দেইনি সোমবার ইসরায়েলি মিডিয়ায় জানিয়েছেন, রাফা সীমান্তে প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণে তাদের ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ভূমিকা পালন করবে।
মিলিশিয়ার পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য নারীরা বলছেন, দলটি নিজেকে আবু শাবাব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। এক নারী, যার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, জানিয়েছেন যে দলটি তাকে ইউরোপে যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করলে সহায়তা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে একই নারী দাবি করেন যে, মিলিশিয়া তাকে এবং তিনজন অন্য নারীর সঙ্গে শারীরিক নির্যাতন করেছে। তিনি বলেন, তারা মারধর, নগ্ন-পরীক্ষা, হাতকড়া এবং মৌখিক অপমানের শিকার হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো রাফা সীমান্তের পুনরায় খোলার পর গাজা জনগণের মুখোমুখি হওয়া নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী ও স্থানীয় মিলিশিয়ার সমন্বয়কে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমে।
রাফা সীমান্তের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজা থেকে বেরিয়ে যাওয়া ও ফিরে আসা মানুষদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এখন আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।



