সারা ফার্গুসন, প্রাক্তন ডাচেস, এবং জে. জে. এপস্টেইনের মধ্যে বিনিময় করা ইমেইলগুলো সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, যা তার আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন এবং মানসিক চাপের ইঙ্গিত দেয়। এই চিঠিপত্রগুলো ২০১০ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এপস্টেইনের অপরাধমূলক শাস্তি চলাকালীন সময়ে লেখা হয়েছে।
বিবিসি নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, ফার্গুসন নিজেকে “খুবই ট্রমাটাইজড এবং একা” বলে বর্ণনা করেছেন এবং এপস্টেইনের কাছে বাড়ি-পরিচালনা সহায়তার প্রস্তাব রেখেছেন। একই সময়ে তিনি দক্ষিণ ফ্রান্সে “সুন্দর বাটলার” সহ অবস্থান সম্পর্কে উল্লেখ করেন, যা তার জীবনের সুবিধাজনক দিককে প্রকাশ করে।
প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে এপস্টেইন ফার্গুসনকে তার ব্যবসায়িক পরিচিতি ব্যবহার করে বাকিংহাম প্যালেসের ভ্রমণ ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন। তিনি তার কন্যাদের নামও উল্লেখ করে, তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলেন। মার্চ ২০১০-এ এপস্টেইনের একটি বার্তায় তিনি লিখেছেন, “ধন্যবাদ সারা, তুমি কি তোমার কন্যাদের একজনকে বাকিংহাম দেখাতে পারবে?” ফার্গুসনের উত্তর ছিল, “অবশ্যই।” এই বিনিময়টি তাদের পারিবারিক সম্পর্কের ব্যবহারকে স্পষ্ট করে।
জুলাই মাসে ফার্গুসন এপস্টেইনকে জানিয়ে দেন যে তার কন্যারা সেই সপ্তাহান্তে উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি দেশে না থাকলে শাসন করতে পারি না,” এবং যোগ করেন যে তার কন্যা ইউজি ফ্রান্সে এবং বেট্রিস ডেভের সঙ্গে বাইরে ছিলেন। এপস্টেইনও একটি বার্তায় লন্ডনে আসন্ন বন্ধুর কথা উল্লেখ করে, তার কন্যাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা জিজ্ঞাসা করেন।
ইমেইলগুলোতে ফার্গুসন এপস্টেইনকে “আমার স্তম্ভ” বলে উল্লেখ করেন এবং নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, “আমি খুবই দুঃখিত,” যা তার আর্থিক ও মানসিক নির্ভরতার ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের ভাষা পূর্বে তার পাবলিক ইমেজের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ, যেখানে তিনি প্রায়শই আত্মবিশ্বাসী ও পুনরুদ্ধারশীল হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এপস্টেইন ২০০৯ সালের ২২ জুলাই ১৮-মাসের শাস্তির মধ্যে ১৩ মাস কাটিয়ে মুক্তি পেয়েছিলেন। প্রকাশিত চিঠিপত্রের কিছু অংশ তার জেল শাস্তি চলাকালীন সময়ে লেখা হয়েছে, যা তার অপরাধমূলক রেকর্ডের সঙ্গে সমান্তরাল। ফার্গুসনের ইমেইলগুলো জুন এবং জুলাই ২০০৯-এ তার নাম উল্লেখ করে, যা এপস্টেইনের মুক্তির পূর্বের সময়কে নির্দেশ করে।
বিবিসি নিউজ ফার্গুসনের কাছ থেকে মন্তব্য চেয়েছে, তবে এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, এপস্টেইনের ফাইলের মধ্যে নাম উল্লেখ করা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত নয়। তবে এই চিঠিপত্রগুলো ফার্গুসনের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা এবং তার ব্যক্তিগত উদ্বেগের মাত্রা প্রকাশ করে।
ফার্গুসনের ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপন করতে ইচ্ছুক ছিলেন, যার মধ্যে তার কন্যাদেরকে সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া অন্তর্ভুক্ত। এধরনের অনুরোধগুলো তার পারিবারিক জীবনের সঙ্গে পেশাগত স্বার্থের মিশ্রণকে তুলে ধরে।
এপস্টেইনের পক্ষ থেকে পাঠানো বার্তাগুলোতে তার বন্ধুদের লন্ডনে আসার পরিকল্পনা এবং ফার্গুসনের পরিবারকে স্বাগত জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ পায়। এই ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে পারস্পরিক সুবিধার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অনুমান করা যায়।
ফার্গুসনের ইমেইলগুলোতে তিনি নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে স্বীকারোক্তি করেন এবং এপস্টেইনকে সমর্থনকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। এই স্বীকারোক্তি তার পূর্বের পাবলিক চিত্রের সঙ্গে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে, যেখানে তিনি প্রায়শই আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীন হিসেবে উপস্থাপিত হতেন।
এই চিঠিপত্রগুলো প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো নতুন অপরাধমূলক দিক উন্মোচিত হয়নি। ফার্গুসনের আর্থিক ও মানসিক অবস্থার বিশ্লেষণ মূলত এই ইমেইলগুলো থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, সারা ফার্গুসন এবং জে. জে. এপস্টেইনের মধ্যে বিনিময় করা ইমেইলগুলো তার আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন, পারিবারিক সম্পর্কের ব্যবহার এবং মানসিক উদ্বেগের প্রকাশ করে। যদিও এপস্টেইনের অপরাধমূলক রেকর্ডের সঙ্গে এই চিঠিপত্রের সময়সীমা ও বিষয়বস্তু সংযুক্ত, তবু ফার্গুসনের কোনো অপরাধমূলক দোষারোপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে এই বিষয়ের ওপর আরও তদন্তের সম্ভাবনা রয়ে গেছে।



