20 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিটেক সিইওদের আইসিই কার্যক্রমের বিরোধিতা ও প্রকাশিত মতামত

টেক সিইওদের আইসিই কার্যক্রমের বিরোধিতা ও প্রকাশিত মতামত

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম আটজনের মৃত্যু ঘটিয়েছে, যার মধ্যে মিনিয়াপলিসে দুইজন মার্কিন নাগরিক রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেট্টি অন্তর্ভুক্ত। ফেডারেল অভিবাসন এজেন্সি আইসিই (ICE) এই মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইসিই-এর কার্যক্রমে বাড়তি কঠোরতা দেখা গেছে; আইনি আশ্রয় খোঁজা স্কুল বাচ্চাদেরও আটক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি কর্মীরা তাদের শিল্পের নেতাদের থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করে আসছেন।

প্রযুক্তি খাতের রাজনৈতিক সংযোগ দীর্ঘদিনের বিষয়। প্যালান্টির, ক্লিয়ারভিউ এআই, ফ্লক এবং পারাগনসহ কয়েকটি কোম্পানি আইসিই-কে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে। এই সংস্থাগুলোকে আইসিই-এর কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে।

ট্রাম্পের শাসনামলে শিল্পের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। এলন মাস্ক কয়েক মাসের জন্য একটি সরকারি সংস্থায় কাজ করেছেন, আর সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারী ডেভিড স্যাক্স প্রেসিডেন্টের জন্য প্রযুক্তি পরামর্শদাতা বোর্ডের নেতৃত্বে আছেন।

মেটার মার্ক জুকারবার্গ, অ্যাপলের টিম কুক এবং গুগলের সুন্দর পিচাই ট্রাম্পের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং তার পরেও প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

আইসিই-কে বিরোধিতা করা কর্মী গোষ্ঠী ICEout.tech জানুয়ারি ২৪ তারিখে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যুর পর তারা দাবি করে যে “বিগ টেক সিইওরা আজ রাতে হোয়াইট হাউসে”। এই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে টিম কুক, আমাজনের অ্যান্ডি জ্যাসি এবং জুমের এরিক ইউয়ান একটি মেলানিয়া ট্রাম্পের ডকুমেন্টারির স্ক্রিনিং-এ অংশগ্রহণ করেছিলেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমাদের শিল্পের নেতাদের প্রভাব আছে; অক্টোবর মাসে তারা ট্রাম্পকে সান ফ্রান্সিসকোর পরিকল্পিত আইসিই আক্রমণ বাতিল করতে রাজি করিয়েছিল”। এরপর তারা সকল শহর থেকে আইসিইকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়।

বড় প্রযুক্তি কোম্পানির কিছু সিইও এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রকাশ্যভাবে মন্তব্য করেছেন। তবে কর্মচারীদের মধ্যে এই মন্তব্যের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কিছু কর্মী সমর্থন জানিয়েছেন, আবার অন্যরা নেতাদের নীরবতা বা ধীর প্রতিক্রিয়াকে সমালোচনা করেছে।

লিঙ্কডইন সহ-প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান, যিনি ডেমোক্র্যাটিক দানকারী হিসেবে পরিচিত, জানুয়ারি ২৯ তারিখে সান ফ্রান্সিসকো স্ট্যান্ডার্ডে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করে আইসিই-এর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রযুক্তি নেতাদেরকে নীতি পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলেছিলেন।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য মন্তব্যের মধ্যে অ্যাপলের টিম কুকের একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি রয়েছে, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আইসিই-এর কার্যক্রমের পুনর্বিবেচনা দাবি করেছেন।

গুগলের সুন্দর পিচাইও একই সময়ে একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে কর্মীদের জানিয়ে দিয়েছেন যে কোম্পানি মানবাধিকার ও নৈতিক মানদণ্ডের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আইসিই-র অতিরিক্ত জোরালো পদক্ষেপের বিরোধিতা করবে।

মেটার মার্ক জুকারবার্গের অফিসিয়াল ব্লগ পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন যে প্রযুক্তি শিল্পের সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে এবং আইসিই-র কার্যক্রমে মানবিক ক্ষতি কমাতে শিল্পের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এলন মাস্কের ক্ষেত্রে, যদিও তিনি সরকারী সংস্থায় স্বল্প সময় কাজ করেছেন, তবে তার কোনো সরাসরি মন্তব্য আইসিই-র বিরুদ্ধে প্রকাশিত হয়নি। তবে তার পূর্বের অভিব্যক্তিতে তিনি অভিবাসন নীতি নিয়ে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।

এই সব প্রকাশের পরও আইসিই-র কার্যক্রমে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেনি, এবং প্রযুক্তি কর্মীদের প্রতিবাদ ও দাবি অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তি সিইওদের অবস্থান ও নীতি প্রভাবের ওপর নজর রাখা হবে, বিশেষ করে নির্বাচনী চক্রের কাছাকাছি সময়ে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments