অন্তবর্তীকালীন সরকার আজ ঢাকা সেক্রেটারিয়েটের একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে যে, নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটিক ব্যবস্থা সংরক্ষিত থাকবে, যদিও বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারে হস্তান্তর করা হবে। এই ঘোষণার সময় আর্থিক উপদেষ্টা সালেহুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি সরকারের ক্রয় কমিটির আজকের সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
সালেহুদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন যে, জাতীয় বেতন কমিশন সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে, যেখানে সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি এই প্রতিবেদনকে “খুবই ইতিবাচক” বলে মূল্যায়ন করেন এবং নতুন বেতন কাঠামোর গুরুত্বকে তুলে ধরেন।
অন্তবর্তীকালীন সরকার এই সুপারিশের ভিত্তিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করবে, যা বেতন কমিশনের প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সরকারকে সুপারিশসহ আর্থিক সংস্থান সরবরাহ করবে। আহমেদ জানান, বাজেটের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে, ফলে নতুন সরকারকে আর্থিক ঘাটতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হবে না।
গেজেটের মাধ্যমে বেতন বৃদ্ধি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রক্রিয়া সহজ নয়, এ বিষয়ে আহমেদ স্পষ্ট করেন যে গেজেট প্রকাশের জন্য প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। তাই তিনি উল্লেখ করেন, গেজেট প্রকাশের পরিবর্তে একটি কমিটি গঠন করে পরবর্তী সরকারকে প্রস্তাবনা ও তহবিল হস্তান্তর করা হবে, যা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি তৈরি করবে।
বৈধ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রশ্নে আহমেদ স্বীকার করেন যে তিনি নির্বাচনী ব্যয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে অন্তবর্তীকালীন সরকার ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে আর্থিক সহায়তা দিতে পিছপা হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের জন্য চাওয়া যেকোনো তহবিল সরবরাহ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত অনুরোধে তিনি সাড়া দিতে প্রস্তুত ছিলেন।
এই ঘোষণার ফলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হতে হবে, কারণ তহবিল ও নীতি প্রস্তাবনা ইতিমধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে। বেতন বৃদ্ধি সরকারি কর্মচারীদের মনোবল ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনসেবার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন।
সারসংক্ষেপে, অন্তবর্তীকালীন সরকার নতুন বেতন স্কেল সংক্রান্ত আর্থিক ব্যবস্থা সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ তৈরি করেছে, একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



