দেবীদ্বার, কুমিল্লা‑৪ (দেবীদ্বার) আসনে ১১‑দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বটতলী বাজারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় ভোটের দিন সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মাদক, অনলাইন জুয়া ও চাঁদাবাজি বন্ধ হবে বলে ঘোষণা করেন। তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেবীদ্বারে একটি ‘নতুন সূর্য’ উদিত হবে, যেখানে চাঁদাবাজি ও ঋণখেলাপিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে, এমন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, পূর্বে নির্বাচনের সময় ভোটারদের খাবার, নগদ এবং সিএনজি অটোরিকশা পাঠানোর মতো অনিয়ম দেখা গিয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রার্থী থেকে ঘুষ গ্রহণের পর পাঁচ বছর ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা নৈতিকভাবে সম্ভব নয়।
ভোটারদের জন্য তিনি বিশেষ নির্দেশ দেন: ফজরের নামাজের পর ভোট কেন্দ্রের কাছে থাকতে হবে এবং ফলাফল ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান বজায় রাখতে হবে, যাতে কেউ ভোটাধিকার চুরি না করতে পারে। কেন্দ্র দখলের কোনো প্রচেষ্টা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করার আহ্বানও তিনি জানান।
সভায় তিনি ছাত্র শক্তি ও ছাত্রশিবিরের কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ করেন এবং তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে বলে আশ্বাস দেন।
একই দিনে, দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত আরেকটি উঠান বৈঠকে হাসনাত আবদুল্লাহ তার নিজ ইউনিয়নে নির্বাচনী ব্যানারে আগুন লাগার অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি জানান, সোমবার রাতে রসুলপুরের খাইয়ার গ্রামে তার ব্যানারে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালানো হয়।
উঠান বৈঠক ও বটতলী বাজারের সভায় জামায়াত-এ-ইসলামির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াত-এ-ইসলামির সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ এবং স্থানীয় জামায়াত-এ-ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত থেকে মন্তব্য করেন।
শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল দলকে একত্রে কাজ করা দরকার। তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সাইফুল ইসলাম শহীদও একই রকম মত প্রকাশ করে, ভোটারদের স্বেচ্ছা ও স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে বলে আহ্বান জানান।
হাসনাত আবদুল্লাহ সভায় উল্লেখ করেন, তার দল নির্বাচনের আগে মাদক ও চাঁদাবাজি মুক্ত করার জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করবে, যার মধ্যে স্থানীয় যুব সংগঠনকে প্রশিক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি আশ্বাস দেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেবীদ্বারের সামাজিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রতিপক্ষের কিছু নেতা এই দাবিকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সময়ের অভাবের ইঙ্গিত দেন, তবে তারা ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব স্বীকার করেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর, জাতীয় নাগরিক দল ও জামায়াত-এ-ইসলামি উভয়ই ভোটারদের অংশগ্রহণের হার বাড়াতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘোষণাগুলি স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন দিক নির্দেশ করে এবং পরবর্তী নির্বাচনী পর্যায়ে নিরাপত্তা ও নৈতিকতা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কীভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।



