কোলম্বিয়ার আমাজন জঙ্গলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং বি.বিসি সাংবাদিকরা জঙ্গল কমান্ডোর সঙ্গে মাদক গ্যাংের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন। এই অপারেশনটি পুতুমায়ো জেলার সীমান্তে, ইকুয়েডরের কাছাকাছি, যেখানে দেশটির কোকার উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারটি উড্ডয়নের প্রস্তুতিতে রোটর ব্লেডগুলো গরম বাতাসে কেটে চলছিল। জঙ্গল কমান্ডো, যা ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহে অস্ত্রশস্ত্রযুক্ত, প্রথমে ব্রিটিশ এসএএসের প্রশিক্ষণ পেয়েছিল।
কমান্ডো দলটি আধুনিক অস্ত্রধারী এবং তাদের মিশন পূর্বে বহুবার সম্পন্ন হয়েছে। পরিষ্কার আকাশের নিচে উড্ডয়ন সত্ত্বেও, উচ্চ অড্রিনালিনের কারণে ক্রুতে উত্তেজনা দেখা দিচ্ছিল।
কোলম্বিয়ার মাদক ব্যবসা অনুসরণে যেকোনো দলকে ঝুঁকির মুখে দাঁড়াতে হয়। কমান্ডোরা প্রায়শই অপরাধী গোষ্ঠী এবং প্রাক্তন গেরিলা দলের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়, যারা ১৯৭০‑৮০ দশকের কার্টেলকে বদলে নতুন শক্তি গড়ে তুলেছে।
উড্ডয়নের সময় দুইটি অতিরিক্ত ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল। নিচের ঘন জঙ্গলে সবুজ রঙের বড় এলাকা কোকার চাষের চিহ্ন দেখাচ্ছিল, যা জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ সংস্থা (UNODC) ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী লন্ডনের আয়তনের প্রায় দুগুণ এবং নিউ ইয়র্কের চারগুণ বিস্তৃত।
কোলম্বিয়া বিশ্বব্যাপী কোকার প্রায় ৭০% সরবরাহের প্রধান উৎস। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেশটি আন্তর্জাতিক মাদক নীতির কেন্দ্রে রয়েছে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে গাস্তাভো পেট্রোকে সমালোচনা করে বলেছেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় কোকার প্রবাহ রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তিনি পেট্রোকে “রোগী” বলে সমালোচনা করে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই হুমকি কমে এসেছে।
পেট্রো সরকার দাবি করে যে তারা ইতিহাসের সর্বোচ্চ পরিমাণ মাদক বাজেয়াপ্ত করেছে, তবে একই সময়ে কোকার উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা জাতিসংঘের ২০২৫ সালের বিশ্ব মাদক রিপোর্টে উল্লেখ আছে। পেট্রো এই রিপোর্টের গণনা পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
দুই দেশের নেতার মধ্যে শীঘ্রই একটি বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে কোলম্বিয়ার মাদক উৎপাদন ও পাচার মোকাবেলা বিষয়টি প্রধান আলোচনার বিষয় হবে। উভয় পক্ষই এই সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
অবশেষে, জঙ্গল কমান্ডো এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার এই যৌথ উপস্থিতি কোলম্বিয়ার মাদক বিরোধী প্রচেষ্টার একটি নতুন পর্যায় নির্দেশ করে। তবে কোকার চাষের বিস্তৃতি এবং অপরাধী গোষ্ঠীর শক্তি বৃদ্ধির কারণে যুদ্ধের সমাপ্তি এখনও দূরে।
এই পরিস্থিতিতে কোলম্বিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী, সরকার এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন, যাতে মাদক উৎপাদন ও পাচারকে কার্যকরভাবে দমন করা যায় এবং দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন রক্ষা করা যায়।



