20 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসিলেটের হাওরে জ্বলে পেড়া লাশের পরিচয় শনাক্ত, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ৫৯ বছর বয়সী নাগরিক

সিলেটের হাওরে জ্বলে পেড়া লাশের পরিচয় শনাক্ত, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ৫৯ বছর বয়সী নাগরিক

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সাতঘরি ও বিলপার এলাকার সীমান্তে অবস্থিত একটি হাওরে মঙ্গলবার বিকেলে জ্বলে পেড়া এক লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের পরিচয় সিলেট নগরের আম্বরখানা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাক던, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ৫৯ বছর বয়সী বুরহান উদ্দিন হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে কুলাউড়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন, এরপর থেকে তার whereabouts অজানা ছিল।

বুরহান উদ্দিনের পরিবার জানায়, তিনি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং সিলেট শহরে কাজের জন্য ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। নিখোঁজ হওয়ার পর সিলেট বিমানবন্দর থানা এলাকায় তার জন্য একটি নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তৈরি করা হয়। স্থানীয় মানুষ ও পরিবার দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পর, হাওরের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে লাশের সন্ধান চালু হয়।

মঙ্গলবার দুপুর প্রায় দুইটার দিকে হাওরের এক কোণায় লাশটি পাওয়া যায়। স্থানীয় লোকজন লাশটি আগুনে পুড়ে গিয়ে ভেঙে গিয়েছে বলে জানায় এবং তা সঙ্গে সঙ্গে জকিগঞ্জ থানায় রিপোর্ট করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। লাশটি এক পায়ে দড়ি বাঁধা, গলায় কাপড় বেঁধে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়; পাশাপাশি লাশের পাশে একটি লবণের প্যাকেটও পাওয়া যায়।

হত্যা বা দুর্ঘটনা সংক্রান্ত কোনো প্রাথমিক সূত্র না থাকলেও, লাশের অবস্থান ও তার সাথে যুক্ত বস্তুগুলো তদন্তের মূল দিক নির্ধারণে সাহায্য করছে। উদ্ধারকৃত দেহের ওপর থেকে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয় এবং সিলেটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর বিশেষ দল এই ছাপ বিশ্লেষণ করে পরিচয় নিশ্চিত করে।

ফিঙ্গারপ্রিন্টের তুলনা শেষে বুরহান উদ্দিনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর, দেহটি সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে ফরেনসিক মেডিকেল এক্সামিনার (এমই) সম্পন্ন করা হবে, যাতে দেহের ক্ষত, পোড়ার মাত্রা এবং দড়ি ও কাপড়ের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা যায়।

অফিসার আবদুর রাজ্জাক, জকিগঞ্জ থানার ওয়্যারিং অফিসার, জানান, “দেহের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে দ্রুত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে এবং এখন ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলমান।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, তদন্তে পিবিআই ও সিআইডি দল একসাথে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

হাওরে লাশের অবস্থান, দড়ি ও কাপড়ের ব্যবহার, এবং লবণের প্যাকেটের উপস্থিতি তদন্তকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে কোনো সন্দেহভাজন বা অপরাধীর নাম প্রকাশ করা হয়নি; তবে পুলিশ সকল সম্ভাব্য সূত্র অনুসন্ধান করছে, যার মধ্যে রয়েছে নিখোঁজের সময় তার গন্তব্য, যাত্রাপথে সম্ভাব্য গাড়ি বা সঙ্গী, এবং হাওরের আশেপাশের কোনো অপরিচিত কার্যকলাপ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বুরহান উদ্দিনের নিখোঁজের সময় তিনি কুলাউড়া যাওয়ার পথে ছিলেন এবং তার গাড়ি বা সঙ্গীর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে এবং হাওরের আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে কোনো অতিরিক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, সিলেট পুলিশ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলো একত্রে কাজ করে ঘটনাটির সম্পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে কাজ করছে। লাশের ফরেনসিক রিপোর্টের ফলাফল পাওয়া মাত্রই, তদন্তের পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments