দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার শীর্ষে অবস্থান করছেন। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক এই সাপ্তাহিক সাময়িকী দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিশদে আলোচনা করেছে।
সাময়িকী উল্লেখ করেছে, গণতন্ত্রে ফিরে আসা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করবে, বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং ভারতের সঙ্গে বর্তমান টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক মেরামতে সহায়তা করবে। এসব পরিবর্তন দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থাকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার দৃশ্যকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি যখন ঢাকায় প্রবেশ করলেন, উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা রাস্তায় ছুটে এসে বাসটি ধীর গতিতে চালিয়ে তাদের দৃষ্টিতে ধরতে চেয়েছিলেন। এই দৃশ্যকে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
দ্য ইকোনমিস্টের মতে, ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশে কোনো ‘যথাযথ’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং দেশের প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ কখনো প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। এই তথ্য দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
নিরাপত্তা বিষয়ক থিঙ্কট্যাংক বিআইপিএসএসের শাফকাত মুনিরের মন্তব্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি দুই দশক ধরে ভোটের কোনো মূল্য পাননি বলে উল্লেখ করেন এবং এখন রাজধানীর রাস্তায় নির্বাচনী ব্যানার শোভা পাচ্ছেন বলে জানান। এই মন্তব্য দেশের ভোটারদের অংশগ্রহণের অভাবকে তুলে ধরে।
অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কাজ করে একটি সংস্কার পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে, যা স্বৈরতন্ত্রের দিকে পতন রোধে সহায়ক হতে পারে। পরিকল্পনার মধ্যে নতুন একটি উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দশ বছর সীমিত করার প্রস্তাব রয়েছে। এই সংস্কারগুলোকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জামায়াত-এ-ইসলামি দলটি নির্বাচিত হলে ‘সব বাংলাদেশির জন্য সংযতভাবে শাসন করবে’ বলে দাবি করে, তবে তার অগ্রগতি শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দলটির নীতি ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন স্তরে মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে।
দ্য ইকোনমিস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সব পরিবর্তন তারেক রহমানের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে, কারণ বিএনপি জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি ভোটারদের মধ্যে পুনরায় বিশ্বাস জাগানোর চেষ্টা করছে।
বিএনপি দীর্ঘকাল ধরে খালেদা জিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে; তিনি দলের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার বাবা, যিনি ১৯৮১ সালে নিহত, দলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি ১৯৯০ ও ২০০০ দশকে তিনবার ক্ষমতায় আসা দেখেছে। এই ঐতিহাসিক পটভূমি দলটির রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উদ্যোগ, এবং তরুণ বাংলাদেশিদের প্রশিক্ষণ প্রদান অন্তর্ভুক্ত। তিনি উল্লেখ করেছেন, নির্বাচিত হলে তার দল বিদেশে উচ্চ শিক্ষিত যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু করবে, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করবে।
সামগ্রিকভাবে, দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন সংস্কার, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দল ও ব্যক্তিরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গঠনে প্রভাব ফেলবে।



