৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুর দুইটায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে শহীদ ডা. জিকরুল হক রোডে একটি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) দলের সদস্যদের ওপর হিংসাত্মক হামলা হয় এবং আসামি মহসিন আলী মন্টু গ্রেপ্তারের সময় আহত হয়।
মন্টু সৈয়দপুরের মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা, তিনি খালেদ মার্কেটে গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনি পূর্বে ফতুল্লা থানার প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছিল।
ঘটনার সময়, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ থেকে পিবিআই দলের পাঁচজন সদস্য শহরে উপস্থিত ছিলেন। এ দলের মধ্যে এসআই মফিজুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, রোকনুজ্জামান, কনস্টেবল সত্যেন্দ্রনাথ এবং তাদের গাড়িচালক হাসান মিয়া অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা মন্টুকে তার ব্যবসা স্থাপন থেকে গ্রেপ্তার করার জন্য সাদা পোশাকে শহরে পৌঁছেছিলেন।
গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার সময়, মন্টু ভুয়া ডিবি (ড্রাইভিং লাইসেন্স) নিয়ে গিয়ে যাচ্ছেন বলে চিৎকার করেন। তার এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় আশেপাশের কিছু লোক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, মন্টু এবং পিবিআই সদস্যদের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষ শুরু হয়। লোকজনের আক্রমণে পিবিআই সদস্যরা আহত হন এবং তাদের মাইক্রোবাসে ক্ষতি হয়।
সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পিবিআই দলের তিনজন এসআই ফতুল্লা থানার প্রতারণা মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সৈয়দপুরে পৌঁছেছিলেন। তবে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় সাদা পোশাকে উপস্থিত হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত হিংসা ঘটেছে। ঘটনায় আহত পিবিআই সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত ফোর্স পাঠানো হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের এসপি মোস্তফা কামাল উল্লেখ করেন, তাদের টিম নিয়মিতভাবে মামলার আসামি ধরতে গিয়ে নীলফামারীর সৈয়দপুরে হিংসার শিকার হয়েছে। তিনি জানান, এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত চালিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, মন্টু ফতুল্লা থানার প্রতারণা মামলায় এখনও জবাবদিহি করতে বাকি। গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় হিংসা ঘটার ফলে তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অপরাধের অভিযোগও যুক্ত হতে পারে। বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ এবং পিবিআই উভয়ই ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পর, স্থানীয় আদালতে মামলার শোনানির তারিখ নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে, পিবিআই সদস্যদের ওপর আক্রমণকারী ব্যক্তিদের আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করতে বিশেষ তদন্ত ইউনিট গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে পুলিশ বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং জনসাধারণের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর, নীলফামারীর স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বিভাগ হিংসা রোধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং জনগণকে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি সহযোগিতা করতে আহ্বান জানিয়েছে।



