বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এভিয়েশন ও সিএ) ডা. হুমাইরা সুলতানা আজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি জাতীয় পতাকার ক্যারিয়ারের ৫৪ বছর ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে এই পদে অধিষ্ঠিত হন। এই পদগ্রহণ দেশের এয়ারলাইন শিল্পে লিঙ্গ সমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের আজ প্রকাশিত আদেশে হুমাইরাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের এমডি ও সিইও পদে স্থায়ী না হওয়া পর্যন্ত কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই পদবী তার ভবিষ্যৎ কোনো অন্য পদে স্থানান্তর না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। আদেশের আইনি ভিত্তি সরকারী সিভিল সার্ভিস নিয়মাবলীর অধীনে নেওয়া হয়েছে।
একই আদেশে পূর্বে চুক্তিভিত্তিতে নিযুক্ত ডা. মো. শফিকুর রহমানের এমডি ও সিইও পদ বাতিল করা হয়েছে। শফিকুর রহমানকে অপরাধমূলক অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ায় তার দায়িত্ব তৎক্ষণাৎ শেষ করা হয়েছে। চুক্তি রদ করার ফলে তার বেতন ও সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
পুলিশ গতকাল শফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রীকে ১১ বছর বয়সী গৃহকর্মীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী গৃহকর্মীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বাড়ি ও কর্মস্থলে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে।
শিকারের পিতা, যিনি হোটেল কর্মী, নারী ও শিশু নিপীড়ন প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী উটরা পশ্চিম থানা-তে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি রবিবার দাখিলের পর দ্রুত তদন্ত শুরু হয়। আইন অনুসারে এই ধরনের অপরাধে কঠোর শাস্তি নির্ধারিত, যা আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োগ হবে।
তদন্তকারী সাব-ইনস্পেক্টর রোমার মিয়া জানিয়েছেন, আদালত শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীর জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের জেলখানায় পাঠিয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও বর্তমানে দুজনই আটক অবস্থায় রয়েছেন। জামিন প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে অপরাধের গুরত্ব ও প্রমাণের শক্তি উল্লেখ করা হয়েছে।
ডা. মো. শফিকুর রহমানকে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার মেয়াদে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন ও সেবা উন্নয়নের পরিকল্পনা চালু হয়েছিল, তবে এই দায়িত্বের শেষ হঠাৎ ঘটেছে। তিনি তার সময়কালে ফ্লিট রক্ষণাবেক্ষণ ও রুট সম্প্রসারণে কিছু অগ্রগতি অর্জন করেন।
হুমাইরা সুলতানার নেতৃত্বে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন শিল্পে নতুন দৃষ্টিকোণ আনবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। প্রথম নারী সিইও হিসেবে তার উপস্থিতি কর্মী মনোবল ও লিঙ্গ সমতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া, তার নেতৃত্বে কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাজারের দৃষ্টিতে এই পরিবর্তন শেয়ারহোল্ডার ও ভোক্তাদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংস্থার আর্থিক অবস্থা ও রুট নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা এখনও রয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা নতুন ব্যবস্থাপনা দলকে আর্থিক পুনর্গঠন ও লাভজনকতা বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন।
হুমাইরা সুলতানা এখন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আর্থিক পুনর্গঠন, ফ্লিট আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করার দায়িত্বে আছেন। তার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও নীতি-নির্ধারণের পদ্ধতি এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে। তাছাড়া, জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা এবং আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার মুখে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে।
সারসংক্ষেপে, হুমাইরা সুলতানার নিযুক্তি এবং শফিকুর রহমানের দায়িত্ব বাতিল উভয়ই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। নতুন ব্যবস্থাপনা দলকে আর্থিক স্থিতিশীলতা, সেবা মান উন্নয়ন এবং কর্মী নীতিতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এই পরিবর্তনগুলো কীভাবে বাজারের প্রতিক্রিয়া ও গ্রাহক সন্তুষ্টিতে প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।



