৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনে ছয়টি পৃথক আদেশের মাধ্যমে দুই শতাধিক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্বে স্থানান্তর করেছে। এই আদেশগুলো এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন‑৩) তানভীর আহমেদ স্বাক্ষরিত এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত।
আদেশের ভিত্তিতে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকা (উত্তর) ও ঢাকা (পূর্ব) থেকে মোট ৭৪ জন কর্মকর্তা গাজীপুরের সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটে বদলি করা হয়েছে। একই সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের বিশাল সংখ্যক কর্মীকে চট্টগ্রাম আইসিডি ও কাস্টমস হাউসে পুনঃনিয়োগ করা হয়েছে, যেখানে দুইটি আদেশে প্রায় ৪৯ জনের বদলি রেকর্ড হয়েছে।
চট্টগ্রাম কমিশনারেট থেকে ২৭ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কক্সবাজারের কমিশনারেটে স্থানান্তরিত হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা (দক্ষিণ) ও ঢাকা (পশ্চিম) কমিশনারেট থেকে ২২ জনকে ঢাকা (উত্তর) কমিশনারেটে বদলি করা হয়েছে। খুলনা কমিশনারেট থেকে ১৫ জনকে ভোমরা ও সাতক্ষীরার কাস্টমস হাউসে পুনঃনিয়োগ করা হয়েছে।
প্রতিটি আদেশে উল্লেখ আছে যে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের স্মারক মূলে প্রাপ্ত সম্মতির ভিত্তিতে আদেশগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে তৎক্ষণাৎ যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তানভীর আহমেদ জানান, সম্প্রতি কাস্টমস ক্যাডারের সম্প্রসারণের ফলে আটটি নতুন কমিশনারেট গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিশনারেটের কার্যকরীতা নিশ্চিত করতে সকল স্তরের কর্মকর্তার উপস্থিতি অপরিহার্য, তাই এই বদলিগুলো পিরিয়ডিক অর্ডার হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।
কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে কর্মী ঘাটতি ও অতিরিক্ত কর্মী সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা এই বদলির পেছনে প্রধান কারণ। নতুন কমিশনারেটের গঠন এবং বিদ্যমান অফিসের কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়াতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহের গতি ত্বরান্বিত করা লক্ষ্য।
বদলির ফলে কাস্টমস হাউস ও ভ্যাট কমিশনারেটের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন হবে, যা শুল্ক ও কর সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা আনতে পারে। বিশেষ করে গাজীপুর ও কক্সবাজারের মতো শিল্পকেন্দ্রিক এলাকায় কর্মী ঘনত্ব বাড়লে বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রক্রিয়াকরণ সময় কমে বাজারের প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অধিকন্তু, নতুন কমিশনারেটের সৃষ্টিতে কাস্টমস ক্যাডারের সম্প্রসারণের ফলে ভবিষ্যতে আরও উচ্চ দক্ষতার কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব বেসকে শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
নিয়োগ ও বদলির প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক বলে তানভীর আহমেদ জোর দিয়ে বলেন যে, সব আদেশই কমিশনারের অনুমোদন এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে সম্পন্ন হয়। এই প্রক্রিয়া আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, কর্মী পুনর্বিন্যাসের ফলে কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগে সেবা গুণমানের উন্নতি এবং শুল্ক সংগ্রহের হার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে নতুন অফিসের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি, নতুবা অস্থায়ী অকার্যকারিতা দেখা দিতে পারে।
সংক্ষেপে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই বৃহৎ বদলি কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনের কাঠামোকে আধুনিকায়ন, কর্মী দক্ষতা বাড়ানো এবং রাজস্ব সংগ্রহের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করার দিকে লক্ষ্য রাখে। নতুন কমিশনারেটের কার্যকরীতা এবং স্থানান্তরিত কর্মকর্তাদের দ্রুত অভিযোজনই ভবিষ্যৎ আর্থিক স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হবে।



