মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ৭৩টি সংশোধনীসহ নতুন ক্রিকেট আইনের কাঠামো প্রকাশ করেছে, যার মূল লক্ষ্য অপেশাদার ও রিক্রিয়েশনাল ক্রিকেটারদের জন্য খেলা সহজলভ্য করা। এই পরিবর্তনগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাটের উচ্চ মূল্যের প্রভাব কমাতে এবং গেমের প্রবাহে কোনো বড় পরিবর্তন না আনতে চায়।
নতুন বিধানের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল ল্যামিনেটেড ব্যাট (টাইপ-ডি) ব্যবহারকে অনুমোদন করা। পূর্বে এই ধরনের ব্যাট শুধুমাত্র জুনিয়র স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল, আর এখন প্রাপ্তবয়স্ক অপেশাদার ম্যাচেও ব্যবহার করা যাবে। এতে ইংলিশ উইলো ও সাশ্রয়ী কাঠের সমন্বয় করা হয়, ফলে পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য হ্রাস না ঘটিয়ে দাম কমে।
ইংলিশ উইলো ব্যাটের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে এক হাজার পাউন্ড বা প্রায় দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই মূল্যবৃদ্ধিকে তীব্র করেছে, ফলে অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য ব্যাট কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ল্যামিনেটেড ব্যাটের অনুমোদন এই দিক থেকে একটি উল্লেখযোগ্য সাশ্রয়ী বিকল্প প্রদান করবে।
এমসিসি উল্লেখ করেছে, ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহারে গেমের গতিপ্রকৃতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না, তবে ব্যাটের খরচে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা যাবে। ব্যাটের গঠন ও পারফরম্যান্সের ওপর গবেষণা চালিয়ে ক্লাব নিশ্চিত করেছে যে এই পরিবর্তনটি খেলোয়াড়ের দক্ষতা বা ম্যাচের ফলাফলে কোনো অনিচ্ছাকৃত প্রভাব ফেলবে না।
আইনবিষয়ক ম্যানেজার ফ্রেজার স্টুয়ার্টের মতে, ইংলিশ উইলোর সংকট মোকাবেলায় গাছের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য না এনে খেলাটিকে সাধারণ মানুষের নাগালে রাখা এখনই বুদ্ধিমানের কাজ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ল্যামিনেটেড ব্যাটের অনুমোদনকে ক্লাবের অন্যতম কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
নতুন নিয়মের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা হল একাধিক দিনের ম্যাচে দিনের শেষ ওভারে উইকেট পড়লে খেলা বন্ধ না করা। পূর্বে উইকেটের পর গেম শেষ হয়ে যেত, এখন বাকি বলগুলো শেষ করতে হবে, যা ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। এই পরিবর্তনটি দীর্ঘ ফরম্যাটের গেমে সময়ের ব্যবহারকে অপ্টিমাইজ করে।
ফিল্ডিং সংক্রান্ত বিধানেও কঠোরতা আনা হয়েছে। বাউন্ডারির বাইরে থেকে লাফিয়ে এসে ক্যাচ নেওয়ার ক্ষেত্রে ফিল্ডারকে শূন্যে থাকা অবস্থায় একবারই বল স্পর্শের অনুমতি থাকবে, এবং ক্যাচ সম্পূর্ণ করতে হলে তাকে অবশ্যই বাউন্ডারির ভেতরে থাকতে হবে। এই শর্তগুলো ফিল্ডিংয়ের ন্যায্যতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
বোলারদের দৌড়ের শুরুর সময় কিপারের গ্লাভসের অবস্থান নিয়েও নতুন নিয়ম নির্ধারিত হয়েছে। বোলার কিপারের গ্লাভস স্টাম্পের সামনে থাকতে পারবে, তবে বল ছোড়ার মুহূর্তে গ্লাভস অবশ্যই স্টাম্পের পেছনে থাকতে হবে। এই শর্তটি বোলার ও কিপারের মধ্যে স্পষ্ট সীমা নির্ধারণ করে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত সংঘাত না ঘটে।
শর্ট রান নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বের শাস্তি বজায় রাখা হয়েছে; ইচ্ছাকৃতভাবে শর্ট রান নিলে পাঁচ রান জরিমানা হবে। পাশাপাশি, পরের বল কোন ব্যাটার স্ট্রাইকে থাকবে তা ফিল্ডিং দল নির্ধারণ করবে, যা গেমের কৌশলগত দিককে আরও স্পষ্ট করে। এই শর্তগুলো রানের ন্যায্যতা রক্ষা করে।
মোট ৭৩টি সংশোধনীতে অন্যান্য ছোটখাটো পরিবর্তনও অন্তর্ভুক্ত আছে, যেমন ওভার শেষের পরে অতিরিক্ত ডেলিভারির নিয়ম, ফিল্ডারদের অবস্থান সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশনা, এবং বোলারদের দৌড়ের সীমা নির্ধারণ। সব পরিবর্তনই ক্রিকেটকে আরও সুশৃঙ্খল ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে গৃহীত।
এই নতুন বিধানগুলো ক্লাবের সদস্য ও স্থানীয় ক্রিকেট সংস্থাগুলোর মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। ব্যাটের দাম কমে যাওয়ায় অনেক তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য গেমে অংশগ্রহণ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, ম্যাচের গতি ও ন্যায্যতা বজায় রাখার জন্য নতুন ফিল্ডিং ও বোলিং শর্তগুলোকে প্রশংসা করা হয়েছে।
এমসিসি উল্লেখ করেছে, নতুন নিয়মগুলো শীঘ্রই সকল সদস্য ক্লাব ও সংশ্লিষ্ট লিগে প্রয়োগ করা হবে। ক্লাবের প্রশাসনিক দল এই পরিবর্তনগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনমতো অতিরিক্ত সমন্বয় করবে, যাতে গেমের মান ও খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ থাকে।
অবশেষে, ক্লাবের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী মাসে নতুন নিয়মের অধীনে প্রথম রিক্রিয়েশনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ল্যামিনেটেড ব্যাট ব্যবহার করে গেমের গতি ও খরচের পার্থক্য সরাসরি অনুভব করতে পারবে। এই টুর্নামেন্টকে নতুন আইনের কার্যকারিতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।



