অর্থ মন্ত্রণালয় আজ (৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) টেক্সটাইল মিলার ও নিটওয়্যার প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে একটি বৈঠক পরিচালনা করে দায়-ফ্রি সুতো আমদানি সংক্রান্ত বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করে। তবে সভা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
বৈঠকের মূল বিষয় ছিল ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতো, যা মাঝারি থেকে মোটা পুরুত্বের এবং নিটওয়্যার উৎপাদনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। মিলাররা এই সুতোতে দায়-ফ্রি সুবিধা বাতিলের দাবি করে, যাতে ভারত থেকে সস্তা সুতোয়ের প্রবেশে স্পিনারদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
গার্মেন্ট, নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও স্পিনারদের মধ্যে দায়-ফ্রি সুতো আমদানি নিয়ে মতবিরোধের কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় এই আলোচনার আয়োজন করে। এখানে উচ্চ কাউন্টের অর্থ হল পুরুত্ব কম, যা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।
বৈঠক শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলার সমিতি (BTMA) সভাপতি শোয়কাত আজিজ রাসেল উল্লেখ করেন যে, মন্ত্রণালয় ১০ কর্মদিবসের অতিরিক্ত সময় চেয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দেরি করেছে। এই অতিরিক্ত সময়ের পরেও কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রাসেল আরও জানান, এই ১০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ফলে নতুন সরকার গঠিত হবে। ফলে মিলারদের নতুন সরকারের সঙ্গে বিষয়টি পুনরায় আলোচনা করতে হতে পারে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKMA) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (FBCCI) প্রশাসক আবদুর রহিম খান, এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। সভা পরিচালনা করেন অর্থ সেক্রেটারি মোঃ খায়রুজ্জামান মজুমদার।
বৈঠকের একই দিনে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGMEA) নেতৃবৃন্দ অর্থ সেক্রেটারির সঙ্গে আরেকটি বৈঠক করেন, যেখানে গত দশ মাস ধরে অমুক্ত নগদ প্রণোদনা তহবিলের মুক্তির অনুরোধ করা হয়।
BGMEA পরিচালক ফয়সাল সামাদ জানান, অর্থ সেক্রেটারি প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা, মোট ৫,০০০ কোটি টাকার বাকি পরিমাণের মধ্যে, মুক্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই তহবিলের মুক্তি শিল্পের নগদ প্রবাহে স্বস্তি আনতে পারে।
দায়-ফ্রি সুতো সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা নিটওয়্যার রপ্তানিকারকদের খরচ কাঠামোতে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি সুবিধা বজায় থাকে, স্পিনারদের মূল্যচাপ বাড়বে; অন্যদিকে সুবিধা বাতিল হলে প্রস্তুতকারকদের ইনপুট খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা রপ্তানি প্রতিযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, দায়-ফ্রি সুবিধা বজায় থাকলে ভারতীয় সস্তা সুতোয়ের প্রবেশে স্থানীয় স্পিনারদের মার্জিন সংকুচিত হতে পারে। অন্যদিকে, সুবিধা বাতিল হলে উৎপাদন খরচ বাড়বে, ফলে কিছু প্রস্তুতকারক বিকল্প সরবরাহকারী বা উপকরণে পরিবর্তন বিবেচনা করতে পারে।
স্বল্পমেয়াদে সিদ্ধান্তের অনুপস্থিতি এবং নির্বাচনের অনিশ্চয়তা শিল্পকে অপেক্ষা অবস্থায় রাখছে। তবে নগদ প্রণোদনা তহবিলের মুক্তি প্রত্যাশিত হলে রপ্তানিকারকদের তরলতা বাড়বে, যা উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়ক হবে।
সারসংক্ষেপে, অর্থ মন্ত্রণালয় দায়-ফ্রি সুতো আমদানি সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ না নিয়ে বৈঠক শেষ করেছে এবং অতিরিক্ত ১০ কর্মদিবসের সময় চেয়েছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে নীতি নির্ধারণে পুনরায় আলোচনা প্রত্যাশিত, আর নগদ প্রণোদনা তহবিলের মুক্তি শিল্পের স্বল্পমেয়াদী আর্থিক চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে।



