রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (IFFR) ৫৫তম সংস্করণের হারবার প্রোগ্রামে গত সপ্তাহান্তে ‘Heart of Light – eleven songs for Fiji’ শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রটি বিশ্বপ্রদর্শনী পেল। এই কাজের প্রধান চরিত্রে তিল্ডা স্বিনটন উপস্থিত, আর ছবির সৃষ্টিকর্তা হলেন সিসিনিয়া বেট, যিনি ফিজির সঙ্গে তার নিজস্ব শৈশবের স্মৃতি ভাগ করে নেন।
সিসিনিয়া বেটের ফিজি সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তার জীবনের একাধিক দশক বিদেশে কাটানোর পর ফিরে আসার গল্পে রূপ নেয়। তিনি নিজে ফিজিতে বড় হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই চলচ্চিত্রের ভিত্তি গড়ে তুলেছেন, যা তার আত্মজীবনীমূলক দৃষ্টিকোণকে শিল্পের সঙ্গে মিশ্রিত করে।
চিত্রের কাহিনী অনুসারে, স্বিনটনের চরিত্র আইওনা বহু বছর বিদেশে বসবাসের পর ফিজির তার শৈশবের বাড়ি ফিরে আসে। তিনি সেখানে মানব সভ্যতা ও তার অশান্তি সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চেষ্টা করেন। এই যাত্রা তাকে দ্বীপের প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং মানুষের সঙ্গে পুনঃসংযোগের পথে নিয়ে যায়।
বেটের বর্ণনা অনুযায়ী, ছবিটি একটি কাল্পনিক আত্মজীবনী, যা নৃবিজ্ঞানীয় গবেষণা ও প্রবন্ধধর্মী কল্পনার মিশ্রণ হিসেবে উপস্থাপিত। চলচ্চিত্রটি শুদ্ধ সিনেমার রূপে উপস্থাপিত হওয়ায় দর্শকদের জন্য একটি অনন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
ফিজি ও তার জনগণের মুখোমুখি হওয়া সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের সমাধান খুঁজে বের করার সম্ভাবনা এই কাজের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী সমস্যার সমাধানে ফিজির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানায়।
প্রযোজনা দলে সিসিনিয়া বেটের সঙ্গে ফিলিপ অ্যাভ্রিল সহ-প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন, আর সম্পাদনা তিল বেকম্যানের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন জেনি লু জিগেল, আর শব্দ নকশা মার্লন বেট পরিচালনা করেছেন। সঙ্গীতের রচনায় তালেি দ্রাউনিবাকা, নেমিয়া ভানুয়া, সিমিয়োনে সেভুদ্রেড্রে, সাইমন ফিশার টার্নার, মিয়া কামি, দাকুই গাউ এবং পোলোটু টোকালাউ গ্রাম অন্তর্ভুক্ত।
চিত্রে স্বিনটনের পাশাপাশি তালেি দ্রাউনিবাকা, সেরেইমা দিভানি, সাইমন ফিশার টার্নার, পিটার কন্যাক, লাসারুসা মোচে এবং এসেকাইয়া টুকাই সোভেয়া সহ আরও কয়েকজন শিল্পী অংশগ্রহণ করেছেন। তবে ছবির মূল আকর্ষণ হিসেবে ফিজি দ্বীপ নিজেই প্রধান চরিত্রের ভূমিকায় রয়েছে।
প্রদর্শনী শুরুতে দর্শকদের সামনে টিএস ইলিয়টের ১৯২২ সালের ‘দ্য ওয়েস্ট ল্যান্ড’ কবিতার একটি লাইন প্রদর্শিত হয়, যেখানে আলোয়ের হৃদয়ে নীরবতা অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। এরপর পর্দায় বেটের নাম, ফিজি এবং তিল্ডা স্বিনটনের উল্লেখ দেখা যায়, যা ছবির থিমকে স্পষ্ট করে।
চলচ্চিত্রের ট্রেলারটি ইতিমধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দর্শকরা ফিজির প্রাকৃতিক দৃশ্য, স্থানীয় সঙ্গীত এবং স্বিনটনের পারফরম্যান্সের সংমিশ্রণ দেখতে পাবেন। ট্রেলারটি ছবির ভিজ্যুয়াল শৈলী ও সুরের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।
বিক্রয় সংক্রান্ত কাজ হার্টবিট পিকচার্স এবং লা সিনেফিলিয়াল দুজনেই পরিচালনা করছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ছবির বিস্তৃত প্রচার নিশ্চিত করবে। চলচ্চিত্রটি ফিজির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক সমতা নিয়ে আলোচনা উত্সাহিত করবে।
‘Heart of Light – eleven songs for Fiji’ দর্শকদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে, যেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি, দ্বীপের প্রকৃতি এবং মানব সমাজের প্রশ্ন একত্রে মিশে এক অনন্য সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি ফিজি ও তার মানুষের গল্পকে বিশ্বজনীন স্তরে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



