পেপাল মঙ্গলবার ঘোষণা করেছে যে হ্যুয়াটের (HP) প্রাক্তন সিইও এনরিক লোরেসকে নতুন সিইও ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগদান করানো হবে। লোরেস, যিনি জুলাই ২০২৪ থেকে পেপালের বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের পদও গ্রহণ করবেন।
এই পরিবর্তনের পেছনে বোর্ডের উল্লেখ আছে যে কোম্পানির পরিবর্তন ও বাস্তবায়নের গতি বর্তমান বাজারের প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমান সিইও অ্যালেক্স ক্রিস, যিনি সেপ্টেম্বর ২০২৩-এ ইন্টুইট থেকে পেপালে যোগদান করে ড্যান শুলম্যানের পরবর্তী পদ গ্রহণ করেন, তার পদত্যাগের পর জেমি মিলার, যিনি কোম্পানির সিএফও ও সিওও, অস্থায়ী সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেবেন যতক্ষণ না লোরেস অফিসে আসেন।
লোরেসের নিয়োগের সময় পেপাল চতুর্থ ত্রৈমাসিকের আয় ও মুনাফা প্রত্যাশার নিচে প্রকাশ করে, যা ভোক্তাদের ব্যয় হ্রাস, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের শিথিলতার ফলে ঘটেছে বলে বিশ্লেষণ করা হয়। তদুপরি, কোম্পানি পুরো বছরের মুনাফা হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের বিস্ময়কর করেছে; ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকরা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছিলেন। ফলস্বরূপ, পেপালের শেয়ার প্রি-মার্কেট ট্রেডিংয়ে প্রায় ১৭.৯% হ্রাস পেয়েছে।
হ্যুয়াটের (HP) শীর্ষে ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে সিইও ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করা লোরেস, পেপালের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে পেমেন্ট শিল্পে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন, প্রতিযোগিতার তীব্রতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে পরিবর্তনের গতি বেড়েছে। লোরেসের মতে, পেপাল এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে অবস্থান করছে এবং তিনি দলকে নতুন উদ্ভাবন দ্রুত বাজারে আনার এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ও বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গঠনে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
লোরেসের নেতৃত্বে পেপালকে কৌশলগতভাবে পণ্য উদ্ভাবন এবং ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফলকে সমন্বয় করতে হবে। বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, নতুন সিইওয়ের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তি শিল্পে তার নেটওয়ার্ক পেপালের পুনরুদ্ধার ও বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, ভোক্তা ব্যয়ের অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পেপালের আয় পুনরুদ্ধার কত দ্রুত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পেপালের বোর্ডের মতে, লোরেসের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত অভিজ্ঞতা কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। নতুন সিইও শীঘ্রই দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং কোম্পানির কৌশলগত পরিকল্পনা ও শেয়ারহোল্ডারদের প্রত্যাশা পূরণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই পরিবর্তনটি পেপালের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, যেখানে নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং আর্থিক ফলাফলের পুনর্মূল্যায়ন একসঙ্গে ঘটছে। পেমেন্ট সেক্টরের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে পেপাল কীভাবে তার প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখবে এবং নতুন প্রযুক্তি গ্রহণে কতটা দ্রুতগতি দেখাবে, তা আগামী ত্রৈমাসিকের পারফরম্যান্সে স্পষ্ট হবে।



