অ্যাভাল্যাঞ্চ, একটি নিউক্লিয়ার ফিউশন স্টার্ট‑আপ, ছোট আকারের ডেক্সটপ ফিউশন সিস্টেম তৈরি করছে এবং সম্প্রতি ২৯ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। এই রাউন্ডের নেতৃত্ব দিয়েছেন আর.এ. ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, আর ৮০ মিলিয়ন ডলার মোট তহবিলের মধ্যে এই নতুন অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত।
কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রোবিন ল্যাংট্রি ছোট মাপের দিকে ঝোঁককে মূল কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কম্প্যাক্ট সাইজের ডিভাইস দ্রুত পরীক্ষা‑নিরীক্ষা এবং পুনরাবৃত্তি সম্ভব করে, ফলে গবেষণার গতি বাড়ে।
ফিউশন শক্তি যদি সফল হয়, তবে এটি পৃথিবীর জন্য বিশাল পরিমাণে পরিষ্কার তাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রাখে। সূর্যের মতোই, ফিউশন প্রক্রিয়ায় হালকা পারমাণবিক কণাগুলি একত্রিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
এই শক্তি অর্জনের জন্য প্লাজমা যথেষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে গরম ও সংকুচিত করতে হয়, যাতে পারমাণবিক কণাগুলি যথেষ্ট সময় একসাথে থাকে এবং ফিউশন ঘটতে পারে। এই শর্ত পূরণ করা এখনো বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ।
ফিউশন শিল্পের কাজের পরিবেশ কঠোর। পদার্থবিজ্ঞান জটিল, উপাদান বিজ্ঞান সর্বাধুনিক, এবং প্রয়োজনীয় শক্তি প্রায়শই বিশাল পরিমাণে হয়। যন্ত্রাংশের সুনির্দিষ্ট মেশিনিং দরকার, আর প্রচলিত বড় স্কেলের সিস্টেম দ্রুত পরীক্ষার সুযোগ দেয় না।
বাজারে বিভিন্ন পদ্ধতি দেখা যায়। কিছু সংস্থা, যেমন কমনওয়েলথ ফিউশন সিস্টেমস, বড় চৌম্বক ব্যবহার করে টোরয়েড‑আকৃতির টোকামাক গঠন করে প্লাজমা ধারণ করে। অন্যরা শক্তিশালী লেজার দিয়ে জ্বালানি পিলেটকে সংকুচিত করে ফিউশন ঘটায়।
অ্যাভাল্যাঞ্চের পদ্ধতি ভিন্ন। তারা অত্যন্ত উচ্চ ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক প্রবাহ ব্যবহার করে প্লাজমা কণাগুলোকে ইলেক্ট্রোডের চারপাশে কক্ষপথে টেনে আনে। কিছু চৌম্বকীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়, তবে টোকামাকের মতো শক্তিশালী নয়। কক্ষপথ সংকুচিত হলে কণাগুলো দ্রুত গতি পায় এবং একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ফিউশন ঘটায়।
এই প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সাম্প্রতিক রাউন্ডে আর.এ. ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি ৮০৯০ ভেঞ্চারস, কংগ্রুয়েন্ট ভেঞ্চারস, ফাউন্ডার্স ফান্ড, লোয়ারকার্বন ক্যাপিটাল, ওভারলে ক্যাপিটাল এবং টয়োটা ভেঞ্চারস অংশগ্রহণ করেছে।
মোট তহবিলের পরিমাণ ৮০ মিলিয়ন ডলার, যা ফিউশন ক্ষেত্রের অন্যান্য বড় প্রকল্পের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম। কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি একাধিক শতকোটি ডলার সংগ্রহ করেছে, তবে অ্যাভাল্যাঞ্চের ছোট স্কেল কৌশল এখনও বিনিয়োগকারীর আগ্রহ বজায় রেখেছে।
ছোট ডিভাইসের মাধ্যমে দ্রুত পরীক্ষার সুযোগ পাওয়া গেলে, ফিউশন গবেষণার অগ্রগতি ত্বরান্বিত হতে পারে। তাত্ত্বিকভাবে, এই পদ্ধতি বড় টোকামাক বা লেজার সিস্টেমের তুলনায় কম খরচে এবং কম জায়গা দখল করে, যা গবেষণা ল্যাবের জন্য সুবিধাজনক।
ফিউশন শক্তির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত, তবে অ্যাভাল্যাঞ্চের মতো উদ্যোগগুলো নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করে। পাঠকরা যদি পরিষ্কার শক্তি সমাধানের দিকে আগ্রহী হন, তবে এই ধরনের ছোট স্কেলের প্রকল্পের অগ্রগতি অনুসরণ করা মূল্যবান হতে পারে।



