৩ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ‘জুলাই সনদ’কে রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও সনদের প্রতিটি অক্ষর কালো কালি দিয়ে লেখা, তার পটভূমি রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
এই সভা ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং গণভোটের প্রচার চালাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। সভার প্রধান অতিথি হিসেবে রীয়াজের বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই সনদ’ রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর, যা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সনদকে সমর্থন না করলে স্বৈরাচার পুনরায় জাতির ঘাড়ে বসতে পারে।
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’কে জয়ী করতে হবে, এটাই রীয়াজের মূল আহ্বান। তিনি ভোটারদের অনুরোধ করেন, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে।
রীয়াজ অতীতের তিনটি নির্বাচনের (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) তামাশা উল্লেখ করে, সেগুলোকে ‘নাটক’ বলে সমালোচনা করেন। ২০১২ সালে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগের জন্য গঠিত ‘সার্চ কমিটি’কে তিনি নাট্যমঞ্চের একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গ করা, গুম-খুনের শিকার হওয়া এবং গ্রেফতার-নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করেন। এই শহীদের আত্মত্যাগকে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনের দায়িত্বের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
রীয়াজের মতে, ব্যক্তিগত স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করা এখনো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি এ ধরনের শাসনকে রোধ করার জন্য পথ বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন।
অন্য দায়িত্ব হিসেবে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথনকশা নির্মাণের কথা বলেন। দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে রয়েছে, তাই আগামী চারের দশকে দেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই তরুণদের ভূমিকা অপরিহার্য।
রীয়াজ উল্লেখ করেন, শহীদের আত্মাহুতি বৃথা যাবে না; তাদের ত্যাগের ফলস্বরূপ দেশ সমৃদ্ধি ও সাফল্যের পথে অগ্রসর হবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, ‘জুলাই সনদ’ সমর্থনকারী জনগণ দেশের উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
সভা শেষে রীয়াজ ভোটারদের শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত ভোটের আহ্বান জানান, যাতে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়। তিনি সকলকে একত্রে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করেন।
এই মতবিনিময় সভা ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ‘জুলাই সনদ’কে সমর্থন করার লক্ষ্যে শেষ হয়, যেখানে উপস্থিত সবাইকে ভোটের গুরুত্ব এবং দেশের স্বায়ত্তশাসনের রক্ষার জন্য একত্রে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।



