ইরান তার সর্বশেষ কৃত্রিম উপগ্রহ হাতিফ-থ্রি তেহরানের জাতীয় মহাকাশ প্রযুক্তি দিবসের অনুষ্ঠানে উন্মোচন করেছে। এই অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উন্মোচন সমারোহে দেশীয় মহাকাশ গবেষণার নতুন মাইলফলক হিসেবে এই স্যাটেলাইটের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
হাতিফ-থ্রি শহীদ সোলেইমানি স্যাটেলাইট কনসোর্টিয়ামের অংশ হিসেবে তৈরি, যা ইরানের মহাকাশ গবেষণায় স্বনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। উপগ্রহটি ইরানের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজস্ব অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে হাতিফ-থ্রি উপগ্রহের হার্ডওয়্যার, প্রপালশন সিস্টেম এবং অনবোর্ড কম্পিউটারের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে এই পরীক্ষাগুলি উপগ্রহের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও কর্মক্ষমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া স্যাটেলাইটের যোগাযোগ ও ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট পরীক্ষামূলক মিশন পরিকল্পনা করা হয়েছে।
উপগ্রহটি দেশীয় উৎক্ষেপণ যানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্থাপন করার সক্ষমতা যাচাই করার লক্ষ্যেও ব্যবহার করা হবে। এই ধাপটি ইরানের নিজস্ব রকেট প্রযুক্তি এবং উৎক্ষেপণ সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সফল উৎক্ষেপণ হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর মিশনের জন্য ভিত্তি স্থাপন করা সম্ভব হবে।
ইরানি বিশেষজ্ঞরা জানান যে হাতিফ-থ্রি মিশন ইরানের মহাকাশ স্বনির্ভরতা বাড়ানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তারা উল্লেখ করেন, এই ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে, এই স্যাটেলাইটের ডেটা ব্যবহার করে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণায় সহায়তা করা যাবে।
ইরান দীর্ঘদিন থেকে মহাকাশ প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। পূর্বে চালু করা হাতিফ-১ ও হাতিফ-২ উপগ্রহের অভিজ্ঞতা এই নতুন মিশনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। হাতিফ-থ্রি উপগ্রহের উন্মোচন ইরানের মহাকাশ নীতি ও কৌশলকে আরও দৃঢ় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাতিফ-থ্রি সফল হলে ইরান আরও উন্নত ক্ষমতার উপগ্রহ ও গবেষণা মিশন চালু করার পরিকল্পনা করছে। এতে উচ্চ রেজোলিউশনের ইমেজিং, রিমোট সেন্সিং এবং যোগাযোগ সেবা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এই ধরনের মিশন ইরানের বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়কে নতুন ডেটা সরবরাহের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।
উপগ্রহের সম্ভাব্য ব্যবহার ক্ষেত্রের মধ্যে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, নেভিগেশন সেবা এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলে সিগন্যাল কভারেজ বাড়িয়ে তথ্যপ্রযুক্তি সেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে। এছাড়া, উপগ্রহের ডেটা ব্যবহার করে কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণায় সহায়তা করা যাবে।
হাতিফ-থ্রি উন্মোচন ইরানের মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করেছে এবং দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এই অগ্রগতি কীভাবে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ নীতিতে প্রভাব ফেলবে, তা ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণ করা দরকার।



