ডুইট মেকনিলের এভারটন থেকে ক্রিস্টাল প্যালেসে স্থানান্তরের চুক্তি শেষ মুহূর্তে ভেঙে পড়েছে। ২৬ বছর বয়সী উইঙ্গার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করে, চার ও অর্ধ বছর চুক্তির শর্তে স্বাক্ষর করেছিল। তবে ডেডলাইন দিন ক্লাবটি ২০ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি হঠাৎ প্রত্যাহার করে। ফলে মেকনিল এভারটনে ফিরে গিয়ে মৌসুমের প্রস্তুতি চালিয়ে যাবে।
ট্রান্সফার ডেডলাইন দিন ক্রিস্টাল প্যালেস প্রি-সিলেকশন ফর্ম জমা দেয়, যা প্রিমিয়ার লিগকে দুই ঘন্টার অতিরিক্ত সময় দেয়। একই সময়ে জঁ‑ফিলিপ ম্যাটেটার ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের মিলান ট্রান্সফার ব্যর্থ হওয়ার খবর আসে, কারণ তিনি মেডিকেল পরীক্ষা পাস করতে পারেননি। এই ব্যর্থতা ক্রিস্টাল প্যালেসের আর্থিক পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলায়, ফলে তারা মূল অফার পরিবর্তন করে ঋণ‑সাপেক্ষে ক্রয় শর্তে রূপান্তরিত করে। পরিবর্তনের ফলে মেকনিলের চুক্তি শর্তে বড় পরিবর্তন ঘটলেও, এভারটন ও খেলোয়াড়কে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ক্রিস্টাল প্যালেসের সিদ্ধান্তের পর এভারটন ক্লাবের মুখে প্রশ্নের স্রোত বয়ে আসে। উভয় দলই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছিল এবং কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পায়নি। ক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনো কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এই অস্বচ্ছতা উভয় পক্ষের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ডুইট মেকনিলের সঙ্গী মেগান শার্প্লে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত পোস্টে ক্লাবের আচরণকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে শেষ ৪৮ ঘণ্টায় কোনো ফোন কল, ইমেইল বা ব্যাখ্যা না পেয়ে তারা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শার্প্লে বলেন, চুক্তি স্বাক্ষর, মেডিকেল, ভ্রমণ এবং বাসস্থানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল, তবু হঠাৎ সবকিছু বাতিল হয়ে গিয়েছে। তিনি এই ঘটনার ফলে তাদের জীবনে বিশাল অশান্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
শার্প্লের পোস্টে তিনি ক্লাবের ‘নির্জনতা’ ও ‘নির্দয়তা’ শব্দগুলো ব্যবহার করে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “যে দলকে তুমি এত ভালোবাসো, তা তোমার প্রতি এত নিষ্ঠুর হতে পারে।” এই বাক্যগুলোতে তিনি ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার মানসিক চাপকে তুলে ধরেছেন। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে চুক্তি বাতিলের পর কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে ক্লাব সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে। তার মতে, এই ধরনের আচরণ খেলোয়াড়ের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা হিসেবে গণ্য করা উচিত।
এভারটন ক্লাবের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনা অপ্রত্যাশিত এবং অস্বাভাবিক। তারা মেকনিলের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন বলে বিশ্বাস করেছিল এবং এখন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এখন এই ট্রান্সফার বাতিলের প্রভাব মোকাবেলা করছে। এভারটন এখনও মেকনিলকে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ খেলায় ব্যবহার করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তবে তার মানসিক অবস্থা ও পারফরম্যান্সে এই ঘটনার প্রভাব কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত।
ক্রিস্টাল প্যালেসের এই আচরণ এভারটনকে গভীরভাবে বিভ্রান্ত করেছে এবং ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগাযোগের গুরুত্বকে আবারো সামনে এনেছে। উভয় ক্লাবের মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা সমঝোতা হয়নি। মিডিয়ার নজরে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তবে কোনো আইনি পদক্ষেপের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রোটোকল শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ডুইট মেকনিলের ক্যারিয়ার এখন এভারটনে চালু থাকবে, এবং তিনি আসন্ন মৌসুমে দলের সঙ্গে তার ভূমিকা বজায় রাখবেন। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের ফলে তার স্থানান্তর পরিকল্পনা বদলে গিয়েছে, তবে তার পারফরম্যান্সের উপর প্রভাব কী হবে তা সময়ই বলবে। মেকনিলের প্রশিক্ষণ ও ম্যাচে অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে, এবং তিনি তার দক্ষতা দিয়ে দলকে সমর্থন করবেন।
এই ঘটনার পর এভারটন ও ক্রিস্টাল প্যালেসের মধ্যে কোনো আইনি বিরোধের তথ্য প্রকাশিত হয়নি, তবে উভয় ক্লাবই মিডিয়ার প্রশ্নের মুখে। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে ট্রান্সফার প্রক্রিয়ায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এখনো স্পষ্ট নয় যে কোন ক্লাবই এই ঘটনার জন্য দায়ী হবে।
মেকনিলের পরিবার এবং সমর্থকরা ক্লাবের এই আচরণকে অনৈতিক বলে সমালোচনা করছেন। তারা খেলোয়াড়ের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অধিক মনোযোগের দাবি জানাচ্ছেন। এছাড়া তারা ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার সময় স্বচ্ছতা ও সময়মত যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন। এই দাবি ভবিষ্যতে ক্লাবগুলোর নীতি পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ক্রিস্টাল প্যালেসের শেষ মুহূর্তে ডুইট মেকনিলের ট্রান্সফার বাতিলের ফলে এভারটন, খেলোয়াড় এবং তার পরিবারে গভীর মানসিক আঘাত ঘটেছে। ক্লাবের অপ্রকাশিত সিদ্ধান্ত এবং যোগাযোগের অভাব এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ট্রান্সফার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও খেলোয়াড়ের মঙ্গলকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।



