বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানকে শিশু গৃহকর্মীর নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর সরকার চুক্তিভিত্তিক তার পদবী বাতিল করেছে। একই সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হুমায়রা সুলতানাকে অতিরিক্ত দায়িত্বে এমডি ও সিইও হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সফিকুরের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি হল একটি গৃহকর্মী শিশুর ওপর শারীরিক নির্যাতন করা, যা স্থানীয় পুলিশ সোমবার ভোরে গ্রেফতারের মাধ্যমে রেকর্ড করেছে। গ্রেফতারকালে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি এবং তার স্বাস্থ্যের ক্ষতি প্রমাণিত হয়েছে। গ্রেফতার পর সাফিকুরকে কারাগারে স্থানান্তর করা হয় এবং তাকে আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সফিকুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পটভূমি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকার দ্বারা করা হয়। ওই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, নতুন গঠিত সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শীর্ষ পদে অভিজ্ঞ প্রশাসক হিসেবে তাকে বেছে নিয়েছিল। তার পূর্বে বিমান সংস্থায় বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্বে কাজ করার রেকর্ড রয়েছে, তবে এই অভিযোগ তার কর্মজীবনে প্রথম বড় ধাক্কা।
সরকারের অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাফিকুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে এবং তার পদ থেকে অবিলম্বে অপসারণ করা হয়েছে। একই আদেশে হুমায়রা সুলতানাকে অতিরিক্ত দায়িত্বে এমডি ও সিইও হিসেবে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সূত্রে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপটি সংস্থার স্বচ্ছতা ও সুনাম রক্ষার জন্য জরুরি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
হুমায়রা সুলতানা, যিনি বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কাজ করছেন, তাকে অস্থায়ীভাবে শীর্ষ দায়িত্বে রাখা হয়েছে। তিনি পূর্বে বিমান সংস্থার নীতি ও নিয়মাবলী তদারকি করার দায়িত্বে ছিলেন এবং তার অভিজ্ঞতা সংস্থার পরিচালনায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার সিইও পদে কাজ করেননি, তাই তার নতুন ভূমিকা নিয়ে কিছু প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে।
সফিকুরের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি, তবে পুলিশ ইতিমধ্যে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে শিশুর শারীরিক ক্ষতির মেডিক্যাল রেকর্ড, গৃহকর্মীর সাক্ষ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হলে, তাকে অপরাধমূলক দায়ের আওতায় আনা হবে এবং শাস্তি নির্ধারিত হবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শীর্ষ পদে এই পরিবর্তন সংস্থার পরিচালনায় অস্থায়ী অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। শেয়ারহোল্ডার, কর্মচারী এবং যাত্রীদের মধ্যে এই পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের স্রোত দেখা দিচ্ছে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও সেবার মান বজায় রাখার প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, হুমায়রা সুলতানা সংস্থার দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ না করে স্বাভাবিক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।
আইনি দিক থেকে, সাফিকুরের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী শিশুর নির্যাতনের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হলে, তাকে আদালতে হাজির হতে হবে এবং তার বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারিত হবে। বর্তমানে পুলিশ তার গ্রেফতার পর জেলখানায় রাখা অবস্থায় রয়েছে এবং আদালত থেকে রিলিজের আবেদন করা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। ভবিষ্যতে যদি আদালত তাকে দোষী রায় দেয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
সংক্ষেপে, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সাফিকুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে হুমায়রা সুলতানাকে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি সংস্থার স্বচ্ছতা রক্ষার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্তের ফলাফল এবং আদালতের রায় সংস্থার পরিচালনা ও কর্মীদের উপর কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



