দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জ্যাকব জুমা ২০১০ সালে লন্ডনের রিটজ হোটেলে একটি ডিনার অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় এপস্টেইনের ইমেইল ফাইলের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছেন। এই ইমেইলগুলোতে জুমা এবং রাশিয়ার এক মডেলকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর আলোচনা রয়েছে।
ইমেইল চেইনটি ৪ মার্চ ২০১০ তারিখের, যেখানে এক ব্যক্তি, যাকে জেফ্রি এপস্টেইনের বন্ধু বলা হয়েছে, জুমার জন্য সন্ধ্যায় একটি ছোট ডিনার আয়োজনের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি রিটজ হোটেলে সন্ধ্যা ৭টায় ডিনার নির্ধারণের কথা জানিয়ে, সম্ভাব্য অতিথিদের তথ্য চেয়েছেন।
এই আমন্ত্রণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এপস্টেইন নিজে এই ডিনারে উপস্থিত থাকবেন এবং তিনি অতিথিদের মধ্যে একজনকে “আকর্ষণীয় রাশিয়ান মডেল” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যাকে তিনি ডিনারের গ্ল্যামার বাড়াতে চান।
মডেলটি আমন্ত্রণ গ্রহণের পর তার পরিচয় ও পেশা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন। তিনি রাশিয়ার নাগরিক, লন্ডনে দুই বছর বসবাস করছেন এবং সিলেক্ট মডেল এজেন্সির অধীনে কাজ করছেন বলে জানান। তার কাজের অভিজ্ঞতা প্যারিস, নিউ ইয়র্ক, বার্সেলোনা ও জাপানসহ বিভিন্ন শহরে রয়েছে।
মডেলটি ডিনারের ড্রেস কোড সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি ব্ল্যাক-টাই ড্রেস কোড মেনে চলতে হবে নাকি স্লিভলেস ককটেল ড্রেসও গ্রহণযোগ্য হবে। এপস্টেইনকে কপি করা এই ইমেইলগুলোতে ডিনারের সময়সূচি ও অতিথিদের তালিকা প্রস্তুত করার জন্য জুমার কাছে সংক্ষিপ্ত বিবরণ চাওয়া হয়েছে।
এই ইমেইলগুলো এপস্টেইনের মৃত্যুর পর প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এপস্টেইন ফাইলে নাম উল্লেখ করা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত দেয় না।
জুমা ফাউন্ডেশন এই বিষয়কে “এজেন্ডা চালিত সাংবাদিকতা” বলে সমালোচনা করেছে এবং দাবি করেছে যে এই প্রকাশনা কেবল গুজবের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ফাউন্ডেশন জুমার কোনো অবৈধ বা অনুপযুক্ত কাজের প্রমাণ নেই বলে উল্লেখ করেছে।
ফাউন্ডেশন আরও উল্লেখ করে যে, জুমা এবং এপস্টেইনের মধ্যে কোনো সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ নেই এবং এই ইমেইলগুলো শুধুমাত্র একাধিক পক্ষের মধ্যে সাধারণ যোগাযোগের অংশ। তারা এই বিষয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যযুক্ত প্রচারণা হিসেবে দেখছে।
এই প্রকাশনা দক্ষিণ আফ্রিকায় রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। জুমার বিরোধী দলগুলো এই তথ্যকে ব্যবহার করে তার নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রশ্ন তুলতে পারে, যদিও কোনো আইনি অভিযোগ এখনও দায়ের হয়নি।
অন্যদিকে, জুমার সমর্থকরা এই ইমেইলগুলোকে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ ও গুজবের অংশ হিসেবে দেখছেন এবং জুমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করার কোনো উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করছেন।
এই ঘটনার পর, জুমা ফাউন্ডেশন এবং তার আইনজীবীরা এপস্টেইন ফাইলের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেনি। তবে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্যের অপব্যবহার রোধে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
সামগ্রিকভাবে, জুমার লন্ডন ডিনার পরিকল্পনা এপস্টেইন ফাইলে প্রকাশিত হওয়া একটি তথ্যগত ঘটনা, যা রাজনৈতিক ও জনমতের দিক থেকে আলোচনার বিষয় হতে পারে, তবে বর্তমানে কোনো অপরাধমূলক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এই তথ্যের ভিত্তিতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় জুমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব পড়বে তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



