ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানা গত রোববার ১১ বছর বয়সী এক মেয়ের উপর নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী আক্তার এবং অজানা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মেয়ের বাবা, যিনি এক বছর বয়সে স্ত্রীর মৃত্যুর পর একা সন্তান লালন-পালন করে আসছেন, আর্থিক সমস্যার মুখে সাত মাস আগে মেয়েটিকে উত্তরার একটি ধনী পরিবারের কাজে নিয়োগ দেন। পরিবারটি মেয়ের বিয়ে ও ভবিষ্যৎ খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে নিয়োগ করেছিল। তবে নিয়োগের পর থেকে মেয়েটি ধারাবাহিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে।
গত ৩১ জানুয়ারি বাবা মেয়েটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসার সময় তার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লক্ষ্য করেন। মেয়ের গলা, পিঠ, হাত, পা এবং শরীরের বেশিরভাগ জায়গায় পোড়া দাগ ও গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁড়া চিহ্ন দেখা যায়। চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সুস্থ হতে অন্তত দুই মাস সময় লাগবে।
আহত মেয়েটিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে তার অবস্থার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, পুরো শরীরে পোড়া ক্ষত এবং গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁড়া চিহ্ন রয়েছে, ফলে সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছে না।
বাবা জানিয়েছেন, মেয়ের মা এক বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, এরপর থেকে তিনি মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে কোনো বিবাহের পরিকল্পনা করেননি। আর্থিক সংকটের কারণে ছয় মাস আগে মেয়েটিকে ধনী পরিবারের কাজে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু পরিবারটি মেয়ের উপর ধারাবাহিক নির্যাতন চালিয়ে যায়।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্তকর্তা মেয়ের বাবা থেকে নির্যাতনের অভিযোগ গ্রহণের পর সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথী আক্তার এবং অজানা কয়েকজনকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারটি রাত ৩:৩০ টার দিকে, উত্তরা থেকে গিয়ে করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের পরের দিনই ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত মামলাটি শোনার পর, অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ জারি করে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন, এবং আদালত থেকে অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, শিশুর নির্যাতনের শাস্তি কঠোর এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাবা আজ দুপুরে ফোনে কথা বলার সময় কাঁদতে কাঁদতে মেয়ের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, মেয়ের গলা, পিঠ, হাত, পা সহ প্রায় সব জায়গায় আঘাতের দাগ রয়েছে এবং পুরো শরীরে পোড়া ক্ষত আছে। তিনি আরও জানান, চিকিৎসকরা সুস্থ হতে অন্তত দুই মাস সময়ের প্রয়োজন উল্লেখ করেছেন।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় সমাজে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবক গোষ্ঠী সমর্থন প্রকাশ করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। মামলাটি কীভাবে অগ্রসর হবে এবং অভিযুক্তদের শাস্তি কী হবে, তা আদালতের পরবর্তী রায়ের ওপর নির্ভরশীল।
শিশু নির্যাতনের শিকারদের সুরক্ষার জন্য আইনগত ব্যবস্থার কার্যকরী প্রয়োগ এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।



