ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (DGCA) জানিয়েছে যে এয়ার ইন্ডিয়া চালিত বুয়েনো ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ সুইচে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। এই জাহাজটি লন্ডন থেকে উড়ে বেঙ্গালুরুর এয়ারপোর্টে অবতরণ করার পর পাইলটের রিপোর্টে সুইচের অস্বাভাবিক আচরণ দেখা গিয়েছিল।
সেই দিনটি রবিবার, জাহাজটি লন্ডন থেকে প্রস্থান করে বেঙ্গালুরুতে অবতরণ করে, যখন ক্রু দু’বার সুইচটি চালু অবস্থায় না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। তৃতীয়বার সুইচটি সঠিকভাবে লক হয়ে গিয়ে উড্ডয়ন সম্পন্ন হয় এবং কোনো ঘটনার প্রতিবেদন না দিয়ে ফ্লাইট শেষ হয়।
এয়ার ইন্ডিয়া সোমবার একটি বিবৃতি দিয়ে জানায় যে তারা তৎক্ষণাৎ DGCA-কে বিষয়টি জানিয়ে পাইলটের উদ্বেগকে অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্তের ব্যবস্থা করেছে। একই সময়ে বুয়েনোও এয়ারলাইনকে বিষয়টি পর্যালোচনায় সহায়তা করার কথা জানায়।
DGCA মঙ্গলবার প্রকাশ করে যে সুইচটি বুয়েনোর সুপারিশকৃত পদ্ধতি অনুসারে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ফলাফল সন্তোষজনক হয়েছে; সুইচটি চালু অবস্থায় রয়ে যায় এবং কাট‑অফ অবস্থায় যায় না। তবে, সুইচটি ভুলভাবে পরিচালনা করলে সহজে চালু থেকে কাট‑অফে সরে যেতে পারে।
এই পরীক্ষাগুলি DGCA কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রভাবিত জাহাজ এবং একই মডেলের আরেকটি জাহাজে করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি এয়ার ইন্ডিয়াকে বুয়েনোর সুইচ পরিচালনার পদ্ধতি সকল ক্রু সদস্যের কাছে বিতরণ করার নির্দেশ দিয়েছে।
একটি ড্রিমলাইনারের গ্রাউন্ডিং এয়ারলাইনটির দীর্ঘ দূরত্বের সেবা ক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে, ফলে সিটের প্রাপ্যতা ও আয় হ্রাস পেতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রুটে এই ধরনের অস্থায়ী বন্ধের ফলে বিক্রয় ও রিজার্ভেশন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয়।
বাজারের দৃষ্টিতে, ত্রুটি না পাওয়া নিরাপত্তা উদ্বেগকে কিছুটা কমিয়ে দেয়, তবে গ্রাউন্ডিংয়ের ফলে সৃষ্ট অপারেশনাল খরচ ও সম্ভাব্য রিভার্সাল রেভিনিউ এখনও বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকে।
এই ঘটনা ঘটার সময় এয়ার ইন্ডিয়ার একই মডেলের জাহাজে গত জুনে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা এখনও তদন্তাধীন, যা নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। অতএব, এই নতুন তদন্তের ফলাফল শিল্পের সামগ্রিক ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
DGCA জোর দিয়ে বলেছে যে সুইচের সঠিক হ্যান্ডলিং প্রশিক্ষণ ক্রুদের জন্য অপরিহার্য, যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ না হয়।
বুয়েনো প্রযুক্তিগত নির্দেশনা প্রদান এবং এয়ার ইন্ডিয়ার পর্যালোচনায় সহায়তা করার মাধ্যমে সরবরাহকারী-এয়ারলাইন সম্পর্ককে মজবুত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানটি দ্রুতই সুইচের সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য প্রশিক্ষণ ও চেকলিস্ট আপডেট করবে, ফলে জাহাজটি স্বাভাবিক সেবায় ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে, পুরো ফ্লিটে অনুরূপ প্রক্রিয়ার মানদণ্ড প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
মানবিক ত্রুটি এখনো বিমান চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে; এয়ারলাইনগুলোকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনা বাড়াতে হবে।
সারসংক্ষেপে, DGCA সুইচে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি না পাওয়া সত্ত্বেও, প্রক্রিয়াগত দিকের যথাযথ মেনে চলা নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতার জন্য মূল চাবিকাঠি হিসেবে তুলে ধরেছে।



