22 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকা-তে চেভেনিং ও কমনওয়েলথ স্কলারদের স্বাগত অনুষ্ঠান

ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকা-তে চেভেনিং ও কমনওয়েলথ স্কলারদের স্বাগত অনুষ্ঠান

ব্রিটিশ হাইকমিশন, ঢাকা, সোমবার সন্ধ্যায় চেভেনিং ও কমনওয়েলথ স্কলারশিপের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে পোস্ট‑গ্র্যাজুয়েট শিক্ষা সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে একটি স্বাগত অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

এই অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে হাইকমিশনের বাসভবনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই বৃত্তি প্রোগ্রামগুলো দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্বের দৃঢ়তা ও গভীরতা প্রকাশ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্কলাররা যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চমানের শিক্ষা লাভ করেছে এবং তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাংলাদেশের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদী।

কুক আরও উল্লেখ করেন যে এই বৃত্তি কর্মসূচিগুলো অভিন্ন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, যা উভয় দেশের দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাগত সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ স্কলার্স অ্যান্ড ফেলোস এবং চেভেনিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ব্রিটিশ কাউন্সিলের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য ও শিক্ষার প্রতি অটুট প্রতিশ্রুতি প্রশংসা করেন, এবং এদের মাধ্যমে দেশের অর্থবহ অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সমাবেশে মোট ৪০ জন কমনওয়েলথ স্কলার এবং ২২ জন চেভেনিং স্কলারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়; পাশাপাশি পূর্বে বৃত্তি গ্রহণকারী অ্যালামনাইদেরও বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

চেভেনিং স্কলারশিপ যুক্তরাজ্য সরকারের আন্তর্জাতিক বৃত্তি উদ্যোগ, যা ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই স্কলারশিপে টিউশন ফি, জীবিকা ব্যয়, ভ্রমণ খরচসহ সম্পূর্ণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

কমনওয়েলথ স্কলারশিপও একই রকম সম্পূর্ণ অর্থায়ন প্রদান করে, তবে এটি কমনওয়েলথের সদস্য দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্টার্স বা পিএইচডি স্তরে গবেষণা ও অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি করে। উভয় স্কলারশিপের মূল লক্ষ্য হল ভবিষ্যৎ নেতা গড়ে তোলা, যারা বিদেশে অর্জিত জ্ঞানকে দেশে প্রয়োগ করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

এই স্বাগত অনুষ্ঠানটি দুই দেশের শিক্ষাগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পাশাপাশি একটি সক্রিয় অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার গুরুত্বও তুলে ধরেছে। স্কলাররা এখন বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্র—স্বাস্থ্য, প্রকৌশল, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি—এ কাজ করছেন এবং তাদের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি দেশীয় প্রকল্পে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশন উল্লেখ করেছে যে ভবিষ্যতে স্কলারশিপের সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন গবেষণা সহযোগিতা এবং স্টেজিয়ারশিপ প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আরও বেশি তরুণের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার দরজা খোলা যায়।

বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ হল, স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিজের একাডেমিক রেকর্ড সুদৃঢ় করা, গবেষণার স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা এবং সমাজসেবার মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলী প্রদর্শন করা।

আধিকারিক যুক্তরাজ্য স্কলারশিপ ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়, এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের শিক্ষা পরামর্শদাতা সেবা থেকে আবেদন কৌশল ও প্রস্তুতি সংক্রান্ত নির্দেশনা নেওয়া যেতে পারে।

অনুষ্ঠানটি শেষ হয় স্কলারদের প্রতি আস্থা প্রকাশের মাধ্যমে, যেখানে সবাই একমত যে তারা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং উভয় দেশের শিক্ষাগত বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments