জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সলিশ কেন্দ্র (ASK) জানিয়েছে যে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিসেম্বর ২০২৫‑এ ১৮টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যার ফলে ২৬৮ জন আহত এবং চারজনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারি ২০২৬‑এ একই ধরনের ঘটনা ৭৫‑এ বেড়ে, ৬১৬ জনের আঘাত এবং ১১ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
ASK-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্বাচনের সময়সূচি প্রকাশ এবং ২২ জানুয়ারি থেকে প্রচারাভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ছে। ডিসেম্বর মাসে মোট ১৮টি ঘটনা হলেও, জানুয়ারি মাসে মাত্র এক মাসে সংখ্যা চার গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা নির্বাচন দিন নিকটবর্তী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়ার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
বিশেষ করে জানুয়ারি ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে ৪৯টি সংঘর্ষ ঘটেছে, যার ফলে ৪১৪ জন আহত এবং চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়কালে রাজনৈতিক দলের সমর্থক ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র মুখোমুখি দেখা যায়। ঘটনাগুলি প্রধানত শহর ও গ্রামীণ এলাকায় ঘটেছে, যেখানে ভোটারদের উপস্থিতি বেশি।
ASK উল্লেখ করেছে যে সাংবাদিকদের ওপরও আক্রমণ বাড়ছে। ডিসেম্বর মাসে ১১ জন সাংবাদিককে বাধা বা শারীরিক আক্রমণের শিকার হতে দেখা যায়, আর জানুয়ারিতে এই সংখ্যা ১৬-এ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাংবাদিকরা যখন সংবাদ সংগ্রহের জন্য মাঠে ছিলেন, তখনই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রেসের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
সংগঠনটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছে যে, নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় সহিংসতা বৃদ্ধি দেশের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। তারা সকল দলকে আহ্বান জানিয়েছে যে, প্রচারকালে শৃঙ্খলা বজায় রাখবে এবং কোনো ধরনের হিংসাত্মক কাজ না করবে।
ASK এছাড়াও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তারা নির্বাচনের সময় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সংবিধানিক অধিকার রক্ষা করবে। তারা দাবি করেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ এবং ন্যায়সঙ্গত বিচার প্রক্রিয়া সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, এই ধরনের সহিংসতা ভোটারদের অংশগ্রহণের ইচ্ছাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো শান্তি বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয় বাড়তে পারে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রভাবিত করবে।
অধিকন্তু, আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে সামাজিক অশান্তি ও বিরোধের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তাই, সকল রাজনৈতিক শক্তি ও নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
ASK-এর এই সতর্কবার্তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেছে এবং সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণে আহ্বান জানিয়েছে। নির্বাচনের আগে সহিংসতার হার যদি কমে না, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।



