রানবীর সিং ও অক্ষয় খান্নার প্রধান চরিত্রে অভিনীত ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এর সঙ্গীত অধিকার নিয়ে বাজারে গুজবের পরিধি বাড়ছিল। তদুপরি, টি-সিরিজের সঙ্গে চুক্তির মূল্য নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে প্রকৃত চুক্তির পরিমাণ ও শর্তাবলী স্পষ্ট করা হয়েছে।
বৈচিত্র্য (Variety) ইন্ডিয়া সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে টি-সিরিজ ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এর সঙ্গীত অধিকার ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার মধ্যে অর্জন করেছে। এই সংখ্যা হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল সঙ্গীত অধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে, এই তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
বলিউড হাঙ্গামা স্বাধীনভাবে এই দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রকাশ করেছে যে, প্রকৃত চুক্তির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সূত্র অনুযায়ী টি-সিরিজ প্রকৃতপক্ষে ২৭ কোটি টাকায় সঙ্গীত অধিকার অর্জন করেছে। এই পরিমাণ পূর্বে প্রচারিত ৫০-৬০ কোটি টাকার চেয়ে প্রায় অর্ধেক কম।
চুক্তিটি একক ভাষার নয়, চারটি ভাষার অধিকারকে একত্রে অন্তর্ভুক্ত করে। হিন্দি, তামিল, তেলেগু এবং কান্নড় ভাষায় ছবির সঙ্গীত প্রকাশের অধিকার টি-সিরিজের হাতে রয়েছে। ফলে, এই চুক্তি একাধিক ভাষার সমন্বয়ে গঠিত একটি প্যাকেজ ডিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
সোর্সের মতে, বাজারে প্রচারিত সংখ্যা অতিরঞ্জিত এবং বাস্তবিক মূল্য ২৭ কোটি টাকা। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে প্যান-ইন্ডিয়ান ছবির সঙ্গীত অধিকার প্রায়ই একাধিক ভাষা একসঙ্গে বাণ্ডল করা হয়, যা মোট মূল্যকে বাড়িয়ে দেখাতে পারে। এই পদ্ধতি শিল্পের নতুন অর্থনৈতিক মডেলকে প্রতিফলিত করে।
‘ধুরন্ধর’ সিরিজের প্রথম ছবির সঙ্গীত অধিকার ১৫ কোটি টাকায় সম্পন্ন হয়েছিল। দ্বিতীয় ছবির চুক্তি প্রায় দ্বিগুণ মূল্যে সম্পন্ন হওয়ায়, ফ্র্যাঞ্চাইজের বাণিজ্যিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ধারণা করা যায়। এই বৃদ্ধি প্রথম ছবির সাফল্যের পর ধারাবাহিকভাবে বাজারে আস্থা জোরদার করেছে।
২৭ কোটি টাকার চুক্তি যদিও প্রাথমিকভাবে ঘোষিত বিশাল সংখ্যার তুলনায় কম, তবু এটি শিল্পের মানদণ্ডে শক্তিশালী বলে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে, সঙ্গীতের ডিজিটাল মনিটাইজেশন ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গীত অধিকার চুক্তির মূল্যও পরিবর্তিত হচ্ছে।
শিল্পের অভ্যন্তরে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, প্যান-ইন্ডিয়ান ছবির জন্য একাধিক ভাষার সঙ্গীত অধিকার একসঙ্গে বাণ্ডল করা এখন সাধারণ প্রথা। এই পদ্ধতি উৎপাদন ও বিতরণ খরচ কমাতে সহায়তা করে, তবে কখনও কখনও সংবাদ শিরোনামে মোট মূল্যকে একক ভাষার চুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা গুজবের জন্ম দেয়।
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এর সঙ্গীত অধিকার চুক্তি এখন স্পষ্টভাবে ২৭ কোটি টাকার হিসেবে স্বীকৃত, যা চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও শিল্পের বর্তমান প্রবণতা উভয়ই প্রতিফলিত করে। ভবিষ্যতে প্যান-ইন্ডিয়ান প্রকল্পের সঙ্গীত অধিকার নিয়ে আরও স্বচ্ছতা আশা করা যায়।



