দুপুরের প্রায় একটায় ঢাকার রামনা এলাকার অফিসার্স ক্লাবের কাছাকাছি এক দ্রুতগামী পিকআপ ট্রাকের আঘাতে ৫০‑এর দশকের মাঝামাঝি এক মানুষ প্রাণ হারিয়ে ফেলেছেন। মৃতের নাম প্রকাশ পেয়ে জানা যায়, তিনি মোঃ রেজাউল কিবরিয়া, যিনি স্থানীয় বাসিন্দা।
রেজাউল কিবরিয়া হোলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী, যেখানে তিনি তার স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে তিনি সিএনজি চালিত অটো রিকশা ব্যবহার করে চলছিলেন।
অটো রিকশা থেকে নামার সময় রেজাউল অফিসার্স ক্লাবের চৌরাস্তার কাছে থেমে গিয়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশকে কিছু জানাতে চেয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে কাকরাইল চার্চের দিকে থেকে মোগবাজারের পথে চলমান পিকআপ ট্রাকটি উচ্চ গতিতে তার দিকে অগ্রসর হয়।
ট্রাকের আঘাতে রেজাউল কিবরিয়া মাটিতে ছুঁড়ে পড়ে এবং গুরুতর আঘাত পায়। কাছাকাছি থাকা পথচারী ও গাড়ি চালকরা তৎক্ষণাৎ তাকে তুলে হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর রেজাউলকে তীব্র যত্নের জন্য আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসা সত্ত্বেও তার অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায় এবং প্রায় বিকেল ৪:০১ টায় ডাক্তারেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রেজাউল কিবরিয়ার মেয়ে তানজিন কিবরিয়া লাবন্যা রামনা মডেল থানা-তে মামলা দায়ের করেন। মামলায় পিকআপ ট্রাকের চালক হিসেবে ২৭ বছর বয়সী মোঃ সোহেল রানা নামটি উল্লেখ করা হয়েছে।
থানার অফিসার-ইন-চার্জ জানান, ঘটনাস্থলে গাড়ি চালককে গ্রেফতার করা হয় এবং গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চালককে একই দিনে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
মামলার রেজিস্ট্রেশন এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির আদালত সমন্বয় প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। রামনা মডেল থানা-র তদন্ত দল ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত ভিডিও রেকর্ড, গাড়ির গতি মাপার রেকর্ড এবং সাক্ষীদের বিবৃতি সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে পিকআপ ট্রাকের অতিরিক্ত গতি এবং সড়ক নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে চালককে রাস্তায় গতি সীমা অতিক্রমের জন্য কঠোর শাস্তি দেওয়া হতে পারে।
এই ধরনের ট্রাফিক দুর্ঘটনা রামনা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায়শই ঘটতে দেখা যায়, তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও গতি সীমা মানার ওপর জোর দিচ্ছে।
অবশ্যই, রেজাউল কিবরিয়ার পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনের শোকের সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও হাসপাতাল কর্মীরা যথাযথ সহায়তা প্রদান করছে।
এই ঘটনার পরবর্তী আদালত শুনানি ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনি দায়িত্বের আওতায় আনা হবে।



