বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) চ্যানেলে জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমে ভাষণ দেবেন, যা আসন্ন সংসদ নির্বাচনের পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ব্যবস্থা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নেওয়া হয়েছে, যেখানে সকল প্রার্থীর জন্য সমান প্রচার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিটিভিকে নির্দিষ্ট স্লট বরাদ্দ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক ৩ ফেব্রুয়ারি বিটিভি মহাপরিচালককে চিঠি পাঠিয়ে এই নির্দেশনা জানিয়ে দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচনী পরিবেশ গঠন অপরিহার্য, এবং জাতীয় টেলিভিশনকে সকল রাজনৈতিক দলের প্রধানদের জন্য সমান প্রচার স্লট প্রদান করা উচিত।
চিঠিতে নির্বাচনী পরিবেশের গুরুত্বের পাশাপাশি, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৬ (জনসভা, পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠান) এর উপবিধি (গ) অনুসারে স্লট বরাদ্দের পদ্ধতি নির্ধারিত হয়েছে। এই বিধি অনুযায়ী, লিখিত আবেদন পাওয়ার সময়ের ক্রমানুসারে স্লট নির্ধারণ করা হবে, এবং প্রতিটি দলের প্রধানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত হবে।
বিটিভি কর্তৃক স্লটের সময়কাল এবং রেকর্ডিং তারিখ নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া, যারা প্রচার স্লটের আবেদন করবে তাদের আবেদন গ্রহণের ক্রমানুসারে বক্তব্যের সুযোগ প্রদান করা হবে, যাতে সকল দল সমানভাবে অংশ নিতে পারে।
তবে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিটিভিতে স্লটের আবেদনকারী দল কেবলমাত্র বিএনপি থেকে এসেছে। অন্য কোনো দল থেকে আবেদন না পাওয়ায়, কমিশন বিটিভিকে বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের জন্য চাওয়া শেষ স্লট, অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সময়ের স্লট, নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে, ৯ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে বিএনপি তারেক রহমানের ভাষণ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হবে, যা নির্বাচনের পূর্বে পার্টির মতামত ও পরিকল্পনা জনসাধারণের কাছে পৌঁছানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে মোট ৫১টি দল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী দাখিল করেছে এবং তারা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৩০ টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবে। এই সময়সীমা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শেষ তারিখের আগে শেষ হয়, যা সকল দলকে সমান প্রচার সময় প্রদান করে।
বিএনপি তারেক রহমানের ভাষণ নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের শেষ পর্যায়ে পার্টির অবস্থান ও নীতি স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে। বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায়, এই ভাষণ বৃহৎ দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাবে এবং ভোটারদের মধ্যে পার্টির বার্তা পৌঁছানোর সম্ভাবনা বাড়াবে।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এই ধরনের সমন্বয়কে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ভবিষ্যতে, নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমের পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কমিশন অতিরিক্ত নির্দেশনা জারি করতে পারে, যাতে সকল দল সমান সুযোগ পায় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নির্ভরযোগ্য থাকে।
সংক্ষেপে, ৯ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের বিটিভি ভাষণ, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নির্ধারিত, এবং এটি আসন্ন সংসদ নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত সকল দল সমান প্রচার সময় পাবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



