ঢাকার জনপ্রিয় স্বাস্থ্য‑সচেতন রেস্তোরাঁ মালাইকারে সম্প্রতি মেনু প্রকাশের পর দাম নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে। এক প্লেট সাধারণ মশলা খিচুড়ির মূল্য ৫৫০ রুপি, যা বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ৭৫০ টাকার সমান। একই সময়ে পানীয় ও অন্যান্য খাবারের দামও উচ্চ সীমায় নির্ধারিত হয়েছে।
মালাইকারের মূল ধারণা ছিল পুষ্টিকর উপাদান দিয়ে তৈরি খাবার সরবরাহ করা, যাতে গ্রাহকরা স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বজায় রাখতে পারেন। রেস্তোরাঁটি শাকসবজি, সম্পূর্ণ শস্য এবং কম চর্বি সমৃদ্ধ পদে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। তবে মেনুতে যুক্ত উচ্চমূল্য এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
মেনুতে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রধান পদের দাম নিম্নরূপ: অ্যাভোকাডো টোস্টের মূল্য ৬২৫ রুপি, বিশেষ সালাদের দাম ৭২০ রুপি, এবং লুধিয়ানা শৈলীর বাটার চিকেনের মূল্য ৭৫০ রুপি। এসব আইটেমের দাম স্থানীয় বাজারের গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
পানীয়ের ক্ষেত্রে এক বোতল শুদ্ধ পানির দাম ৩৫০ রুপি নির্ধারিত হয়েছে, আর বিট ও বেদানার মিশ্রণে তৈরি বিশেষ পানীয়ের মূল্য ৪৫০ রুপি। দু’টি পানীয়ই স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে প্রচারিত হলেও, তাদের মূল্যের পার্থক্য গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
রেস্তোরাঁটির উচ্চমানের সেকশনেও দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যেখানে প্রায় ২৯ হাজার রুপি মূল্যের শ্যাম্পেন ও ককটেল সরবরাহ করা হয়। এই প্রিমিয়াম অফারটি মূলত উচ্চ আয়ের গ্রাহক গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে তৈরি, যা রেস্তোরাঁকে একটি এলিট ডাইনিং স্পটের মর্যাদা দেয়।
সম্প্রতি বলিউডের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখকে মালাইকারে দেখা গেছে, যা মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সেলিব্রিটিদের উপস্থিতি রেস্তোরাঁর ব্র্যান্ড ইমেজকে উঁচুতে তুললেও, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য দাম নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
দাম প্রকাশের পর সামাজিক মিডিয়ায় গ্রাহকদের কাছ থেকে বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এক প্লেট খিচুড়ির দামকে অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করে, বিশেষ করে একই ধরনের খাবার অন্য রেস্তোরাঁতে কম দামে পাওয়া যায়। এই মতামত রেস্তোরাঁয়ের মূল্য নীতি নিয়ে আলোচনা বাড়িয়ে তুলেছে।
মালাইকারের মূল্য নির্ধারণকে প্রিমিয়াম পজিশনিং হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়; উচ্চ মূল্যের মাধ্যমে ব্র্যান্ডকে এক্সক্লুসিভ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই কৌশলটি উচ্চ ক্রয়ক্ষমতা সম্পন্ন গ্রাহককে আকৃষ্ট করতে পারে, তবে একই সঙ্গে বৃহত্তর ভোক্তা গোষ্ঠীর কাছে প্রবেশের বাধা তৈরি করে।
ঢাকায় স্বাস্থ্য‑কেন্দ্রিক রেস্তোরাঁর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মালাইকারের দাম বাজারে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য হয়তো মূল্য সমন্বয় বা ভিন্ন সেবা মডেল গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে, যাতে তারা গ্রাহকের দৃষ্টিতে প্রতিযোগিতামূলক থাকে।
বাজারের বর্তমান মুদ্রা স্ফীতির প্রবণতা এবং ক্রয়ক্ষমতার হ্রাসের সম্ভাবনা মালাইকারের উচ্চমূল্যকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। যদি গ্রাহকরা বিকল্প সস্তা স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেয়, তবে রেস্তোরাঁয়ের বিক্রয় ও লাভের মার্জিনে চাপ বাড়তে পারে।
দাম সংবেদনশীলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মালাইকারের জন্য মূল্য পুনর্মূল্যায়ন বা মেনুতে আরও বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে যদি ব্র্যান্ডটি এক্সক্লুসিভ ইমেজ বজায় রাখতে পারে, তবে উচ্চমূল্যকে একটি সেলফ‑সার্ভিং মার্কেটিং টুল হিসেবে ব্যবহার করতে সক্ষম হবে।
সারসংক্ষেপে, মালাইকারের স্বাস্থ্য‑সচেতন মেনুতে উচ্চমূল্য নির্ধারণ গ্রাহকের প্রত্যাশা ও বাজারের বাস্তবতার মধ্যে একটি তীব্র টান সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, প্রিমিয়াম পজিশনিং সঠিকভাবে পরিচালিত হলে লাভজনক হতে পারে, তবে অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ গ্রাহক হারানোর ঝুঁকি বাড়ায়।



