চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্নফুলি চ্যানেলে আজ সকালের দিকে সব আগমন‑প্রস্থান জাহাজের চলাচল সম্পূর্ণ থেমে গেছে। কর্মী ও অন্যান্য কর্মচারীরা নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT) কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের DP World-কে লিজে দেওয়ার পরিকল্পনা বিরোধে ২৪ ঘণ্টা কাজ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলে পাইলটেজ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে জাহাজগুলো জোড়া ও বহিরাগত নোঙরস্থলে চলাচল করতে পারছে না।
ধর্মঘটটি শনিবার থেকে শুরু হওয়া আট ঘণ্টার আংশিক ধর্মঘটের পর ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে আজ পূর্ণকালীন কাজ বন্ধের রূপ নিয়েছে। কর্মীরা সরকারী লিজ নীতি বাতিলের দাবি জানিয়ে, NCT‑এর পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি রদ করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পূর্বে তিন দিন পর্যন্ত মূল জেটিগুলোর কার্যক্রমে সীমিত প্রভাব দেখা গিয়েছিল, তবে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা দেখা যায়নি।
আজকের উচ্চ জোয়ার সময়সীমা (১০টা থেকে ১৪:৩০ পর্যন্ত) এ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী চারটি জাহাজ প্রস্থান এবং আটটি জাহাজ আগমন করা ছিল। তবে পাইলট ও লজিস্টিক স্টাফের ওপর কর্মীদের প্রতিবন্ধকতার কারণে কোনো জাহাজ নির্ধারিত সময়ে চলাচল করতে পারেনি। পাইলটরা সাধারণত জেটি ও বহিরাগত নোঙরস্থলের মধ্যে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল দূরত্বে কার্নফুলি চ্যানেল দিয়ে জাহাজ পরিচালনা করেন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক পরিচালক মো. ওমর ফারুকের মতে, কর্মীরা ডক অফিসে উপস্থিত হয়ে পাইলটদের জাহাজে ওঠার আগেই প্রতিবাদ শুরু করে। পাইলটরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছলেও কর্মীদের বাধার ফলে জাহাজ চালু করা সম্ভব হয়নি, এবং লজিস্টিক সাপোর্ট কর্মীদের কাজও থেমে গেছে। এই পরিস্থিতি পুরো বন্দর কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ বন্ধের দিকে নিয়ে গেছে।
বিকাশের শেষ পর্যায়ে, দুইটি জাহাজকে বিকল্প ব্যবস্থা করে প্রায় ১৪:০০ টায় প্রস্থান করতে দেওয়া হয়েছে। একটি জাহাজ RSGT চট্টগ্রাম (পূর্বে পাটেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল) থেকে এবং অন্যটি KAFCO অ্যামোনিয়া জেটি থেকে এসেছে। এই ব্যতিক্রমী অনুমোদন ব্যতীত অন্যান্য সকল নির্ধারিত জাহাজের চলাচল রোধ করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, জাহাজ চলাচলের স্থবিরতা সরবরাহ শৃঙ্খলে উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে। রপ্তানি‑আমদানি কোম্পানিগুলো পণ্য গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছাতে পারবে না, ফলে কন্টেইনার ফি ও ডেমেজ চার্জ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বন্দর ব্যবহারকারী শিপিং লাইনগুলো অতিরিক্ত অপেক্ষার সময়ের জন্য অতিরিক্ত খরচ বহন করতে বাধ্য হবে, যা সামগ্রিক লজিস্টিক খরচে প্রভাব ফেলবে।
শিপিং বাজারে এই ধরণের অস্থিরতা ফ্রেট রেটের তীব্র বৃদ্ধি ঘটাতে পারে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান রুটে। বাণিজ্যিক পণ্য ও কাঁচামালের সরবরাহে বিলম্ব ঘটলে স্থানীয় উৎপাদন খাতে চাপ বাড়বে এবং রপ্তানি আয় হ্রাস পেতে পারে। বিনিয়োগকারী ও আর্থিক বিশ্লেষকরা NCT‑এর লিজ চুক্তি পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা ও DP World‑এর প্রকল্পের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করছেন।
যদি ধর্মঘটের সময়সীমা বাড়ে, তবে বন্দর কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধের ঝুঁকি বাড়বে। লিজ চুক্তি রদ বা পুনরায় আলোচনা না হলে, DP World‑এর বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ আয় প্রত্যাশা প্রভাবিত হতে পারে। একই সঙ্গে, বন্দর কর্তৃপক্ষের উপর চাপ বাড়বে যাতে শ্রমিকদের দাবি মেটিয়ে বাণিজ্যিক স্বাভাবিকতা দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।
সারসংক্ষেপে, আজকের ধর্মঘট চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্পূর্ণ বন্ধের মুখে নিয়ে এসেছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খল, শিপিং খরচ এবং বিনিয়োগ পরিবেশে তাত্ক্ষণিক প্রভাব ফেলবে। পরিস্থিতি শীঘ্রই স্বাভাবিক হলে, বন্দর ব্যবহারকারী ও শিপিং কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিপূরণ ও পুনরায় পরিকল্পনা করতে হবে, আর দীর্ঘমেয়াদে লিজ নীতি ও শ্রমিক-নিয়োগ সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন অপরিহার্য হবে।



