বিএনপি’র ঢাকা‑৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী রালিতে উপস্থিত হয়ে নতুন প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, মানুষের প্রতি ঘৃণা ও কুৎসা ছড়িয়ে দিয়ে কেউ নেতা হতে পারে না এবং এ ধরনের আচরণকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করেন। রালিটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি সমর্থকদের উপস্থিতি ও সমর্থন চেয়ে বলেন।
মির্জা আব্বাস তার বয়স ৭৫ বছর বলে জানান এবং নিজের কর্মজীবনের গৌরবময় অংশগুলো তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭৪ সালে কন্ট্রাক্টরির কাজ শুরু করেন, পরবর্তীতে ঠিকাদারী ও বৈদ্যুতিক কাজের ক্ষেত্রেও নিজ হাতে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। নিজের শ্রমিক পটভূমি ও স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, চুরি‑ডাকাতি নয়, নিজের পরিশ্রমেই আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন।
বক্তৃতার সময় তিনি সমর্থকদের আহ্বান জানান, যদি মুসলিম ও বুকে পাটা থাকে তবে বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে শালিস বসাতে পারেন, তার নাম উল্লেখ করে কোনো বাধা নেই। তিনি নিজের সাহস ও দৃঢ়তা প্রকাশ করে বলেন, তার বুকে কলিজা আছে এবং তিনি যে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের কাছে নিজের দৃঢ়তা ও নৈতিকতা তুলে ধরতে চেয়েছেন।
মির্জা আব্বাস আরও উল্লেখ করেন, চুলার মুখে ছাই বের হয়, সোনা নয়, তাই তিনি মিডিয়ার অতিরিক্ত প্রচারকে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তার সম্পর্কে কোনো ভুল তথ্য ছড়ালে তা দ্রুতই প্রকাশ পাবে এবং প্রচারিত হতে চাইলে বহু রাস্তা আছে, তবে তিনি সেসব পথ অনুসরণ করতে ইচ্ছুক নন। তার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো বিরোধী দলের তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে উল্লেখ করেন এবং নিজের সম্পর্কে কেউ কোনো ভুল তথ্য দিতে পারবে না বলে দৃঢ়ভাবে বলেন। তার দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক উপস্থিতি ও স্থানীয় সংযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে রালির পর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না থাকলেও, বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই ধরনের রালির মাধ্যমে মির্জা আব্বাস তার ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং ভোটারদের কাছে নিজের স্বচ্ছতা ও কর্মদক্ষতা তুলে ধরতে চান। তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তা ভোটারদের মধ্যে নৈতিক নেতৃত্বের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে তার প্রভাব বাড়াতে পারে।
মির্জা আব্বাসের এই রালির মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রার্থীদের সতর্ক করা এবং নিজের কর্মজীবনের গর্ব প্রকাশের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন করা। তিনি নিজের বয়স, কাজের অভিজ্ঞতা ও নৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে একটি পরিষ্কার রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন, যা আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।



