22 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইউএসের সঙ্গে আলোচনা শুরুয়ের ইঙ্গিত দিলেন

ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইউএসের সঙ্গে আলোচনা শুরুয়ের ইঙ্গিত দিলেন

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসৌদ পেজেশকিয়ান বুধবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আলোচনার প্রস্তুতি জানিয়ে ইরান সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের প্রতি সাড়া দিতে ইঙ্গিত দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর অনুরোধে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজা খুলবে, যদি পরিবেশ হুমকি ও অযৌক্তিক চাহিদা থেকে মুক্ত থাকে।

পেজেশকিয়ান টুইটার (X) এ প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেন, তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠলে আলোচনার পথে অগ্রসর হতে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো হুমকি বা অযৌক্তিক প্রত্যাশা ছাড়া একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার।

এই মন্তব্যের পটভূমিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর সাম্প্রতিক সতর্কতা রয়েছে; তিনি ইরানের ওপর কোনো আক্রমণ হলে তা পুরো অঞ্চলে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে বলে সতর্ক করেছেন। তার এই সতর্কতা পেজেশকিয়ানের আলোচনার ইচ্ছার সঙ্গে তীব্র বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন সরকার ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক প্রোগ্রাম ও প্রতিবাদকারীদের ওপর কঠোর দমন নীতি নিয়ে হুমকি জানানো হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিবাদ দমনকে মোকাবেলা করার জন্য সামরিক শক্তি গড়ে তুলছেন, যা ইরানের সীমান্তের নিকটে দৃশ্যমান।

পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন যে, আলোচনাগুলি ইরানের জাতীয় স্বার্থের কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে। তিনি ইরানের স্বার্থ রক্ষার জন্য আলোচনার শর্তাবলী নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মার্কিন মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলে শুক্রবার নির্ধারিত আলোচনায় উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেবে। এই সাক্ষাৎকারটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর একটি নতুন মোড়ের সূচনা হতে পারে।

পেজেশকিয়ানের ঘোষণার আগে, পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরাগচি সিএনএনকে জানান যে, তিনি একটি চুক্তি অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তার এই মন্তব্য ইরান সরকারকে আলোচনার পথে এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের প্রেস পুলে মন্তব্য করে বলেন, যদি কোনো সমঝোতা হয় তবে তা চমৎকার হবে, তবে সমঝোতা না হলে “খারাপ বিষয়” ঘটতে পারে। তার এই বক্তব্য ইরানকে আলোচনার শর্তে চাপ দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

মার্কিন সরকার গত বছর ইরানের পারমাণবিক সুবিধাগুলিতে “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার” নামে একটি লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণ ইসরায়েলের বৃহৎ পরিসরের পারমাণবিক সুবিধা ও বিজ্ঞানীদের লক্ষ্যবস্তু করার পরপরই করা হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের দিকে একটি বিশাল সামরিক শক্তি গতি পাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে “সবচেয়ে বড় এবং সেরা” জাহাজসমূহ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ক্যারিয়ার জাহাজ ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কনকে উল্লেখ করেন, যার এয়ার উইংয়ে প্রায় সত্তরটি বিমান রয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক দমনমূলক পদক্ষেপের পর, প্রতিবাদকারীরা বিবিসিকে জানান যে, তারা আগে কখনও না দেখা ধরনের সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেছে। এই দমনমূলক কার্যক্রমের ফলে ইরান সরকার ৩,১১৭ জনের মৃত্যুর সংখ্যা জানিয়েছে, তবে মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী এই সংখ্যাকে কম বলে দাবি করে।

মার্কিন ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর দমনমূলক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য প্রকাশ করেছে। এই তথ্যগুলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সময় মানবিক দিকটি কীভাবে বিবেচিত হবে তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments