মৌলভীবাজারের বারলেখা উপজেলা, নতুন পল্লথাল সীমান্ত পোস্টের অধীনে আজ প্রাতঃকালীন ১২:৪০ টার দিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ উচ্চ বিস্ফোরক ও অবৈধ অস্ত্রের একটি গুদাম উদ্ধার করেছে। এই পদক্ষেপটি দেশের আসন্ন জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে তীব্র করে তুলেছে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২৪টি পাওয়ারগেল নাইন টিউব, যা মূলত খনন, টানেল নির্মাণ এবং নির্মাণ কাজের বিস্ফোরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ২৩টি ডিটোনেটর, ১৫ মিটার ডিটোনেটর কর্ড এবং তিনটি পাইপ গানও পাওয়া গেছে। এই সব সামগ্রী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-৫২ বেনাইবাজার ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লে.কোলোনেল মো. আতাউর রহমানের নির্দেশে সংগ্রহ করা হয়েছে।
পাওয়ারগেল নাইন একটি বাণিজ্যিক উচ্চ বিস্ফোরক, যা ভারতের এসবিএল এনার্জি লিমিটেডের উৎপাদন। আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে এই ধরণের বিস্ফোরক সাধারণত বৈধ গননির্মাণ প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়, তবে অবৈধভাবে সীমানা পারাপার করে আনা হলে তা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ জানায়, অপরাধীরা আজ প্রায় ১২:১০ টায় সীমান্তের পিলার ১৩৭৫/এ এমের নিকটে অবৈধ সামগ্রী বহন করে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। পিলারটি নতুন পল্লথাল সীমান্ত পোস্টের অধীনে রয়েছে এবং এই অঞ্চলে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব বর্ডার গার্ডের।
একটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুইটি পেট্রোল দল একত্রে বিশেষ অপারেশন চালায়। অপারেশনের সময় সন্দেহভাজনদের উপস্থিতি লক্ষ্য করে তারা দ্রুতই এলাকায় প্রবেশ করে, তবে বর্ডার গার্ডের উপস্থিতি অনুভব করে অপরাধীরা অন্ধকারে গিয়ে গভীর জঙ্গলে পলায়ন করে।
পলায়নের পর প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে বর্ডার গার্ড টারাদারাম এলাকায়, দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত, গুদামটি খালি অবস্থায় পায়। এই স্থানটি সীমান্ত পিলার ১৩৭৫/এ এম থেকে প্রায় ২-৩ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত, যা নির্দেশ করে যে অপরাধীরা সীমান্ত পারাপারের পর দ্রুতই অভ্যন্তরে সরে গিয়েছিল।
লেটারেল রেজার্মেনের মতে, এই ধরণের বিস্ফোরক ও অস্ত্রের অবৈধ প্রবেশ দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার একটি কৌশল হতে পারে। নির্বাচনের পূর্বে এমন সামগ্রী পাওয়া নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য সতর্কতা সঙ্কেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানটি চলাকালীন সময়ে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং অপরাধীদের সনাক্তকরণে এই সমন্বয়মূলক কাজের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
এই ধরণের অবৈধ সামগ্রীর সনাক্তকরণ ও উদ্ধার দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রদর্শন করে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়ে চলেছে, যাতে অননুমোদিত বস্তু দেশের মধ্যে প্রবেশ না করতে পারে।
অবশেষে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই ঘটনার পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে অনুরূপ চেষ্টাকে রোধ করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।



