বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার‑১ (চকরিয়া‑পেকুয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ, ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে চকরিয়ার মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা কোনাখালী ইউনিয়নের জংগলকাটা নির্বাচনী পথসভায় স্বাধীনতার ইতিহাসের বিকৃতির অভিযোগ তুলে বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এমনও শোনা যেতে পারে যে জামায়াত-এ-ইসলামি দেশের স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই করেছে।
সালাহউদ্দিনের মন্তব্যের পটভূমি ছিল দলীয় কর্মীদের সমাবেশ, যেখানে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের সত্যিকারের বর্ণনা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বললেন, ইতিহাসের বিকৃতি দেশের সংহতি ক্ষুণ্ণ করে। তিনি বলেন, জামায়াত-এ-ইসলামি স্বাধীনতার বিরোধিতা করলেও এখন তা পুনর্লিখনের চেষ্টা করছে, যা তিনি ‘অসত্য তথ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বক্তব্যের মধ্যে তিনি জামায়াত-এ-ইসলামির বর্তমান আমিরের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আমিরের বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার ঘোষণাটি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বদলে কর্নেল (অব.) অলি দিয়েছিলেন। সালাহউদ্দিন এ তথ্যকে ‘ভুল এবং বিভ্রান্তিকর’ বলে নিন্দা করেন।
সালাহউদ্দিন জোর দিয়ে বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতা করা দলই আজ ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে, তা অস্বাভাবিক নয়। তিনি যুক্তি দেন, যারা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন স্বাধীনতার গৌরব পুনরুদ্ধারের দাবি করে, যা জনগণের কাছে স্বচ্ছন্দে গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি একটি মুক্তিযোদ্ধাকে দলের সঙ্গে যুক্ত করে, তাকে ভাড়া করে সাইনবোর্ডে প্রদর্শন করতে চায়, যেন তাদেরও মুক্তিযোদ্ধা আছে বলে প্রমাণ হয়। এই পদ্ধতিকে তিনি ‘ভাড়া করা’ এবং ‘প্রতারণা’ বলে সমালোচনা করেন, এবং দাবি করেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এমন কৌশল কখনোই মেনে নেবে না।
সালাহউদ্দিনের মতে, দেশের সকল দেশপ্রেমিক মানুষকে ঐতিহাসিক বিকৃতির বিরুদ্ধে একত্রে প্রতিবাদ করতে হবে। তিনি রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ব হিসেবে স্বাধীনতার সত্যিকারের বর্ণনা ছড়িয়ে দেওয়া, মিথ্যা তথ্যের বিরোধিতা এবং শালীন ভাষায় দৃঢ় নিন্দা করার কথা উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি দেশের স্বাধীনতার শক্তিকে ‘শক্তিশালী’ বলে বর্ণনা করে, জামায়াত-এ-ইসলামির বর্তমান কৌশলকে ‘ভণ্ডামি’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি আশ্বাস দেন, মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিক জনগণ ঐতিহাসিক সত্য রক্ষায় প্রতিবাদ গড়ে তুলবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, জামায়াত-এ-ইসলামির ইতিহাস সংশোধনের প্রচেষ্টা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে সালাহউদ্দিনের দাবি অনুযায়ী, জনগণের ঐতিহাসিক সচেতনতা ও জাতীয় গর্বের ভিত্তিতে কোনো বিকৃতি স্বীকৃত হবে না। ভবিষ্যতে এই ধরনের বিতর্কের ফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়তে পারে।



