22 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি নেতা আমীর খসরু জামায়াত-এ-ইসলামির মুক্তিযুদ্ধ মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানালেন

বিএনপি নেতা আমীর খসরু জামায়াত-এ-ইসলামির মুক্তিযুদ্ধ মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানালেন

ঢাকার একটি অনুষ্ঠানের সমাপনী সেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াত-এ-ইসলামির আমির শফিকুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। শফিকুর রহমান পূর্বে চট্টগ্রামের বন্দর কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদের ভূমিকা তুলে ধরে স্বাধীনতার ঘোষণার গুরুত্বের কথা বলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জ্ঞান জামায়াত-এ-ইসলামির আমিরের কাছ থেকে নেওয়া উচিত এমন ধারণা তিনি প্রকাশ করেছেন, যা আমীর খসরু তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, “বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তো জামায়াতের আমির থেকে কেউ জানতে চায় না।” এই মন্তব্যের পরপরই আমীর খসরু জোর দিয়ে বলেন, “উনার যে এত জ্ঞান মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে, এখন স্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা কে দিয়েছেন, কীভাবে দিয়েছেন, উনার জ্ঞানের পরিধি দেখে আমি খুশি হয়েছি।” তিনি যুক্তি দেন, মুক্তিযুদ্ধের সত্যিকারের ইতিহাসের উৎস জনগণ, কোনো রাজনৈতিক নেতার নয়।

শফিকুর রহমানের চট্টগ্রাম জনসভায় অলি আহমদকে “ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম” বলে প্রশংসা করা হয় এবং তাকে স্বাধীনতার ঘোষণার প্রথম ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অলি আহমদ জিয়াউর রহমানের হাতে ধরা অবস্থায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরে তিনি বিএনপিতে যোগ না দেওয়ার কথা বলেন। এই বিবরণে শফিকুর রহমানের মন্তব্যে বেগম জিয়া এবং জিয়াউর রহমানের নামও উঠে আসে, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জিয়া নয়, স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক ড. অলি আহমদ।” এই মন্তব্যের ফলে জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে ঐতিহাসিক দায়িত্বের পুনর্বিবেচনা দেখা যায়। একই সময়ে, অলি আহমদ নিজে জানিয়েছেন, তিনি আর বিএনপিতে নেই এবং তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে।

বিএনপি নেতা আমীর খসরু এই সবের পর মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে বলেন, শফিকুর রহমানের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত জ্ঞান আগে তিনি জানতেন না, তবে এখন তা দেখে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি যোগ করেন, “উনার যে এত জ্ঞান মুক্তিযুদ্ধ সম্বন্ধে, এখন স্বাধীন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা কে দিয়েছেন, কীভাবে দিয়েছেন, উনার জ্ঞানের পরিধি দেখে আমি খুশি হয়েছি।” এই মন্তব্যে তিনি শফিকুর রহমানের ঐতিহাসিক জ্ঞানের প্রশংসা করেন, যদিও তিনি তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাখ্যান করেন।

শফিকুর রহমানের মন্তব্যের মূল বিষয় ছিল মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণার সঠিক স্থান ও ব্যক্তির স্বীকৃতি। তিনি চট্টগ্রামকে সংগ্রামের রাজধানী হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং অলি আহমদকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তার এই দৃষ্টিভঙ্গি বিএনপি নেতাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করেছে, কারণ তারা ঐতিহাসিক দায়িত্বের স্বীকৃতিতে ভিন্নমত পোষণ করে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, উভয় দলই ঐতিহাসিক বর্ণনা ব্যবহার করে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইছে। তবে উভয় পক্ষই এখনো স্পষ্টভাবে কোনো সমঝোতা বা সংশোধনের ইঙ্গিত দেননি।

বিএনপি নেতা আমীর খসরু উল্লেখ করেন, শফিকুর রহমানের জ্ঞানকে স্বীকৃতি দেওয়া সত্ত্বেও, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সত্যিকারের সূত্র জনগণের মধ্যে থাকা উচিত, কোনো একক রাজনৈতিক ব্যক্তির নয়। তিনি এ কথাটি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সত্যিকারের ধারক হলেন জনগণ, না যে কোনো নেতা।”

শফিকুর রহমানের মন্তব্যের ফলে জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, যেখানে কিছু সদস্য ঐতিহাসিক দায়িত্বের পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। অন্যদিকে, বিএনপি এই সুযোগে নিজেদের ঐতিহাসিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চাইছে।

এই বিতর্কের পরবর্তী ধাপ কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে উভয় দলই আগামী নির্বাচনী পর্যায়ে এই বিষয়কে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। বিশেষত, চট্টগ্রাম ও ঢাকা অঞ্চলে এই বিষয়ের প্রতি জনমত গঠন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সর্বশেষে, উভয় পক্ষই স্বীকার করেছেন যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঠিক বর্ণনা দেশের ঐক্য ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য, এবং তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করা উচিত।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments