22 C
Dhaka
Tuesday, February 3, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবিশেষ আদালত শাহীদ খানকে বিদেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ

বিশেষ আদালত শাহীদ খানকে বিদেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ

ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জাজের কোর্ট আজ এক বিশেষ আদেশ জারি করে, যার মাধ্যমে প্রাক্তন সেক্রেটারি আবু আলম এমডি শাহীদ খানকে বিদেশে যাত্রা থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে। আদালত এই সিদ্ধান্তটি দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতে গ্রহণ করেছে, যেখানে শাহীদ খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

এই আদেশটি মি. মো. সাব্বির ফয়েজ, মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জাজের কোর্টের বিচারক, পিটিশনকারী দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের অনুরোধে জারি করেন। পিটিশনটি আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেনের মতে, শাহীদ খানের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে দাখিল করা হয়েছিল।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে শাহীদ খানকে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত চলাকালে গোপন সূত্র থেকে জানা গেছে, তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে, কমিশন আদালতকে অনুরোধ করে যে, শাহীদ খানকে বিদেশে ভ্রমণ থেকে বাধা দেওয়া উচিত, যাতে তদন্তের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় থাকে।

আদালত শাহীদ খানের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা স্বীকার করে, কারণ তিনি যদি দেশে না থাকেন, তবে তদন্তের প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষ্য গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তাই, আদালত তার বিদেশে যাত্রা সম্পূর্ণভাবে রোধের নির্দেশ দেয়, যাতে তদন্তের সময় তিনি দেশের সীমানার মধ্যে থাকে।

শাহীদ খানকে গত বছর সেপ্টেম্বর ৮ তারিখে একটি অ্যান্টি‑টেরর মামলায় গ্রেফতার করা হয় এবং একই দিনে জেলে পাঠানো হয়। তিনি এস্কাটনে গ্রেফতার হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই জেলায় পাঠানো হয়, যদিও তার নাম ফাইলে উল্লেখ ছিল না। এই ঘটনা তার আইনি অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আগের বছর আগস্ট ২৯ তারিখে শাহবাগ পুলিশ স্টেশনে ১৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী ও বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান, সাংবাদিক মনজুরুল আলম পন্না এবং মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা সহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

মামলাটিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা ‘ম্যানচো ৭১’ নামক প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বক্তৃতার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ উস্কে দিয়েছেন। সেই বক্তৃতা দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নষ্ট করার উদ্দেশ্য বহন করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, লতিফ সিদ্দিকী দেশের শাসনব্যবস্থা নষ্ট করে অস্থায়ী সরকারের পতন ঘটানোর পরিকল্পনা করছিলেন। এছাড়াও, মামলায় ৭০ থেকে ৮০ অজানা ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের ভূমিকা তদন্তাধীন।

শাহীদ খানের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আজ থেকে কার্যকর, এবং তিনি তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত দেশে থাকতে বাধ্য। আদালত এই নিষেধাজ্ঞা রদবদল বা বাড়ানোর ক্ষমতা সংরক্ষণ করেছে, এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ শীঘ্রই জানানো হবে।

পরবর্তী আদালতিক প্রক্রিয়ায় শাহীদ খানের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রমাণ, সাক্ষী এবং আর্থিক নথি বিশ্লেষণ করা হবে। যদি আদালত তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক প্রমাণ পায়, তবে আরও কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, যদি কোনো অযৌক্তিকতা প্রকাশ পায়, তবে নিষেধাজ্ঞা বাতিলের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এই পদক্ষেপটি দুর্নীতি দমন কমিশনের কঠোর নীতি ও দেশের নিরাপত্তা রক্ষার ইচ্ছার প্রতিফলন। কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, যে কোনো ধরণের দুর্নীতি বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আইনের শাসন বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments