গোপালগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৫টি, অর্থাৎ ৯৭ শতাংশকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এই কেন্দ্রগুলোতে মোট ১,০৯২,৬১৮ জন নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে। বাকি ১২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকি অঞ্চল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে; গোপালগঞ্জ‑১-এ পাঁচটি, গোপালগঞ্জ‑২-এ তিনটি এবং গোপালগঞ্জ‑৩-এ চারটি কেন্দ্র নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত।
গোপালগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার ও ডেপুটি কমিশনার আরিফ‑উজ‑জামান উল্লেখ করেছেন যে ঝুঁকি নির্ধারণটি প্রক্রিয়াগত মানদণ্ডের অংশ এবং বাস্তবে সব কেন্দ্রই পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে, অফিসের তালিকাভুক্তি কেবলমাত্র প্রশাসনিক রেকর্ডের জন্য এবং ভোটগ্রহণের সময় কোনো কেন্দ্রই নিরাপত্তাহীন থাকবে না।
পুলিশের মতে কোনো ভোটকেন্দ্রই সম্পূর্ণ ‘ঝুঁকিমুক্ত’ নয়; তবে ৪৮টি কেন্দ্রকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো দূরবর্তী এলাকা, যাতায়াতের কঠিনতা অথবা অতীতের সহিংস ঘটনার কারণে বিশেষ নজরদারির অধীনে থাকবে।
গোপালগঞ্জ ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী ঘাঁটি এবং শীঘ্রই শেষ হওয়া শাসনকালের পর থেকে গত বছর তিনজনের মৃত্যু ঘটেছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্রেই ১০০ শতাংশ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের বেশিরভাগ জেলার তুলনায় আলাদা। অতিরিক্তভাবে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী, আন্সার এবং ভিডিপি সহ বিভিন্ন বাহিনীর তহবিল ও কর্মী উপস্থিত থাকবে বলে অতিরিক্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ মো. সর্বর হোসেন জানান।
ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা সম্পর্কে মিশ্র অনুভূতি দেখা যাচ্ছে। কিছু ভোটার হিংসার আশঙ্কা করে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন থেকে বিরত থাকতে চান, অন্যদিকে বেশিরভাগই ভোটদানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গোপালগঞ্জের বারোশি ইউনিয়নের ১৯ বছর বয়সী প্রথমবারের ভোটার সালমান ইসলাম বলছেন, “এই বছর ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম ভোট দেব, হিংসা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। বিভিন্ন দলের প্রার্থী তাদের প্রতীক প্রচার করছেন, আমি ইতিমধ্যে এক দলের প্রতি পছন্দ গড়ে তুলেছি।”
অন্যদিকে গোপালগঞ্জ সদর এলাকার ৩৮ বছর বয়সী গৃহিণী লিপি বেগম ভোটকেন্দ্রের দিকে যাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চিত বোধ করছেন। তিনি জানান, “আমি ভোট দিতে চাই, তবে হিংসার সম্ভাবনা নিয়ে ভয় পাচ্ছি।”
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের সব ভোটকেন্দ্রেই নিরাপত্তা কর্মী ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঝুঁকি মূল্যায়নের ফলাফল ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিচালনার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। ভবিষ্যতে গোপালগঞ্জের ভোটদান প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।



